
শেষ আপডেট: 24 January 2019 13:28
বৃহস্পতিবার কসবার অ্যাক্রোপলিস মলের ১৮ তলায় শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের অফিস থেকে সিবিআই আধিকারিকরা কার্যত তুলে নিয়ে আসেন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে। তারপর তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। টালিগঞ্জের এক নম্বর প্রযোজকের গ্রেফতারিতে স্বভাবতই শোরগোল পড়ে গিয়েছে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক এ দিন অভিযোগ করেন, তৃণমূল দেখিয়েই শ্রীকান্তের এত বাড়বাড়ন্ত। শাসক দল ভাঙিয়েই যা ইচ্ছে তাই করেছেন তিনি। রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর থেকে তথ্য পেয়েই শ্রীকান্তকে নোটিস পাঠিয়েছিল সিবিআই। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। অভিযোগ এই যে, গৌতম কুণ্ডুর থেকে ছাঁকা ২৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন শ্রীকান্ত। বিনিময়ে যে সিনেমা বানানোর কথা ছিল তা বানাননি। সেই সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা নোটিস পাঠিয়েছিল প্রযোজককে। হাজিরা দিতে না আসায় এ দিন গোয়েন্দারাই চলে যান তাঁর অফিসে।
প্রসঙ্গত, চিটফান্ড মামলায় যাতে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত হয় সে ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন সিপিএম নেতা তথা প্রখ্যাত আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সঙ্গে ছিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। সেই মামলার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। এ দিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়াতেন শ্রীকান্ত। যে অভিযোগে তাঁকে সিবিআই গ্রেফতার করা হয়েছে সেটা চোরেদের ক্ষেত্রে হয়। এ বার মুখ্যমন্ত্রী বলুন, শ্রীকান্ত সৎ না চোর। যদি সৎ হন তাহলে পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করুন।"
সিবিআই সূত্রে খবর, চিটফান্ড তদন্তে বারবার যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে শ্রীকান্ত তার অন্যতম অংশ। গৌতম কুণ্ডুকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে শ্রীকান্ত হুমকি দিতেন বলেও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর।
কয়েকমাস আগেই রোজভ্যালির তদন্তকারী অফিসার বদল করে সিবিআই। ব্রতীন ঘোষালের পরিবর্তে আনা হয় চোজম শেরপাকে। তারপর থেকেই রোজভ্যালি তদন্ত গতি পায়। মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি কে কিনল তা নিয়ে আদা-জল খেয়ে পড়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যা দেখে অনেকেই বলেছিলেন, লোকসভার আগে বাংলার শাসক দলের উপরের দিকে হাত বাড়াতে চাইছে সিবিআই। এ দিন সিপিএমও আরও একবার দাবি তুলল, “চুনোপুঁটি নয়। রাঘব বোয়ালদের ধরতে হবে।”