দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন।
মেলালেন তিনি মেলালেন।
নইলে বাংলা চলচ্চিত্রের কিম্বদন্তী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন কখনও ভেবেছিলেন, বাংলার ভোটে মিমি চক্রবর্তী, নুসরৎ জাহানের সঙ্গে তাঁর নাম নিয়েও আলোচনা হবে!
কিন্তু তাও হল!
শুক্রবার ঝালাপালা রোদে তৃণমূলের সভা ছিল আসানসোলে। সেখানে শাসক দলের প্রার্থী শ্রীমতি দেববর্মা, ওরফে মুনমুন। দিদি গিয়েছিলেন, তাঁর হয়ে প্রচার করতে। বললেন, “মুনমুনের মা সুচিত্রা সেন ছিলেন বাংলার মহানায়িকা। শুধু তাই নয়। ওঁর স্বামী রাজ পরিবারের ছেলে। মুনমুন ইজ নাইস ক্যান্ডিডেট। ভেরি ভেরি গুড। ওঁকে ভোট দিন।”
এ পর্যন্ত বিষ্ময়ের কিছু ছিল না। মুনমুন যখন তৃণমূল প্রার্থী, দিদি তাঁকে জেতানোর কথা বলবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আজ এই প্রথম, বাংলার সাম্প্রতিক কালের এক বড় রহস্য বুঝি ফাঁস করে দিলেন মমতা।
অভিনয় জীবন থেকে অবসর নিয়ে প্রায় তিন দশক নিজেকে পর্দার আড়ালে রেখে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। পর্দার ওপারে পুরোটাই রহস্য। মৃত্যু পর্যন্ত তাঁকে কেউ দেখেননি। তিনি কেমন ছিলেন, কী করছিলেন সবটাই ছিল গোপন। শুক্রবার তাঁর প্রসঙ্গেই মমতা বলেন, “সুচিত্রা সেন তিরিশ বছর কারও সঙ্গে দেখা করেননি। মৃত্যুর ক’দিন আগে মুনমুনকে তিনি বলেছিলেন, যাও তুমি মমতাকে ডেকে নিয়ে এসো। বলে গিয়েছিলেন মৃত্যুর পর আমার সব কাজ মমতা করব। ও আমার পরিবারের এক জন।”
২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি বেলভিউ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল সুচিত্রা সেনের। তার পর দিন কলকাতা দেখেছিল, মা হারা মুনমুনের পাশে মমতাকে। বাড়ি থেকে শ্মশান গোটা রাস্তা মহানায়িকার মরদেহ যেন আগলে আগলে চলছিলেন দিদি।
কিন্তু সুচিত্রা সেনের অন্তিম ইচ্ছার কথা কে জানত! আগে কোনওদিন দিদিও এ কথা বলেননি।
মমতা সুচিত্রা সেনের প্রসঙ্গ টেনে আনার আগে অবশ্য মুনমুনও মায়ের কথা প্রচারের সময় বলেছেন। গত ৫ এপ্রিল ছিল সুচিত্রার জন্মদিন। সে দিন প্রচারে বেরিয়ে মুনমুন বলেছিলেন, “আজকে আমার মায়ের জন্মদিন। ঘরে না গিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি। তোমরা বলো, তৃণমূলকে একটা ভোট দেবে। আমার মায়ের আত্মার শান্তির জন্য জোড়া ফুলকে ভোট দাও। তাঁর মেয়ে এসেছে তোমাদের কাছে। তাঁর নাম রাখতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাখতে।” এরপর মুনমুন বলেন, “আমার টাকা পয়সার দরকার নেই। যা টাকা পাব, সব দিয়ে দেব তোমাদের কাজের জন্য।”
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মুনমুনের মধ্যে একটা সততা রয়েছে। সারা জীবন অভিনয় জগতের সঙ্গে জুড়ে ছিলেন তিনি। ভাবনা মননে ও কথায় বোঝা যায় উনি পুরোদস্তুর অরাজনৈতিক। দুম করে রাজনীতিতে এসে পড়েছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুনমুনের যোগ্যতা হিসাবে যে ভাবে তাঁকে মহানায়িকার মেয়ে বা রাজপরিবারের পুত্রবধূ হিসাবে তুলে ধরছেন, তা প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বস্তুত বিজেপি প্রশ্নও তুলেছে। দলের এক মুখপাত্র বলেন, মমতা বুঝে গেছেন শুধু তাঁর ছবি দিয়ে এ বার ভোট হবে না। তাই ভিড় টানতে কখনও মঞ্চে মিমি বা নুসরৎকে রাখছেন। দেব-কে দিয়ে বেশি বেশি করে সভা করেছেন। শুক্রবার সুচিত্রা সেনের প্রসঙ্গও পাড়লেন। বোঝা যাচ্ছে দিদি চাপে আছেন।