দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘটনায় অঘটনে অকুস্থলে পৌঁছে যাওয়া তাঁর বহু পুরনো অভ্যাস। সে ভিখারি পাসোয়ানের বাড়ি হোক, চম্পলা সর্দার, নন্দীগ্রাম হোক বা লালগড়। সেই তিনিই, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার উত্তর চব্বিশ পরগনার হাড়োয়ার জনসভা থেকে জানিয়ে দিলেন, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় তাঁর কৌশল কী ছিল?
ঘূর্ণিঝড় ফণী যেখান থেকে বাংলায় ঢোকার কথা ছিল সেখানে গিয়ে বসে ছিলেন, যাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে সুবিধে হয়।
ফণী আতঙ্ক কেটে গিয়েছে বঙ্গবাসীর। ওড়িশা যতটা বিধ্বস্ত, বাংলায় ততটা ছাপ পড়েনি। কিন্তু বাংলার রাজনীতিতে সেই ছাপ এখনও রয়ে গিয়েছে। ফণী নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফোন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সেই ফোন না ধরা নিয়ে তরজা চলছেই।
শনিবাসরীয় দুপুরে সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে দিদি বলেন, “ফণী এসেছিল ফণা তুলবে বলে। যেখান দিয়ে বাংলায় ঢোকার কথা ছিল, সেখানে গিয়ে বসে ছিলাম। ফণাটা আগে আমার দিকে তুলুক। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ব।”
দুর্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি করছেন বলে ফের অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মোদীর ফোনের ব্যাপারে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে বলেন, “আমি যখন খড়্গপুরে বসে আছি, তুমি তখন কলকাতায় ফোন করেছ। কেন তুমি আমার মোবাইল নম্বর জানো না? সারাক্ষণ তো আমার ফোন ট্যাপ করো। কার সঙ্গে কথা বলছি, কাকে মেসেজ করছি, সব দেখো!” মমতা বলেন, “আমি যখন ফণীর জন্য খড়্গপুরে বসে আছি, তুমি তখন ইলেকশনের প্রচার করে বেড়াচ্ছ। আমাকে এ সব শেখাতে এসো না।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য শুনে মস্করা করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। তাঁদের কথায়, ফণী বুঝতে পেরেছিল, তার থেকেও ভয়ানক ঝড় খড়্গপুরে বসে আছে। তাই মুখ ঘুরিয়ে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছে। বিজেপি মুখপাত্রের কথায়, ফণীকে মিস করছে তৃণমূল। ওরা ভেবেছিল, ক্ষয়ক্ষতি অনেক হবে বাংলায়। তার পর কেন্দ্রের পাঠানো টাকায় ত্রাণ বিলি করে তাতে তৃণমূলের স্টিকার মেরে ফায়দা তুলবে ভোটে। সেই প্ল্যান মাঠে মারা গেছে। তাই আফসোস করছে এখন।
তাঁর কথায়, আর ফোন ট্যাপের অভিযোগ বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখে মানায় না। বিরোধীরা দূরস্থান, তৃণমূলের সরকারের মন্ত্রী নেতারা পর্যন্ত ট্যাপ হওয়ার ভয়ে একাধিক ফোন ব্যবহার করেন। হোয়াটস অ্যাপ কলে কথা বলেন। নইলে দিদি কী ভাবে জেনে যান, তাঁর দলের কোন নেতা কার সঙ্গে কবে কথা বলেছেন!
https://www.youtube.com/watch?v=mc1PGFW9_wo&feature=youtu.be