দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ে মঙ্গলবার আলোচনা ছিল বিধানসভায়। অধিবেশনের শুরুতেই বাম-কংগ্রেস বিধায়করা রাজ্য সরকারের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে ভাষণ দিয়েছিলেন। সুর মিলিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়করাও। কিন্তু এর পর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী জবাব দিতে গিয়ে ডেঙ্গি নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন বাম-কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গির লার্ভা কি তৃণমূল কংগ্রেস আমদানি করে নাকি। নাকি সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস আমদানি করে? যদি তৃণমূল কংগ্রেস আমদানি করত তাহলে আগে বলতাম আপনাদের গিয়ে কামড়াতে।”
বিধানসভায় সাধারণ প্রশ্নের উত্তর মুখ্যমন্ত্রী দেন না। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য সচিবের পদ থেকে সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে সরিয়ে বিবেক কুমারকে সেই দায়িত্ব দেওয়ার পরই অনেকে আন্দাজ করতে শুরু করেছিলেন, মঙ্গলবার বিধানসভায় হয়তো ডেঙ্গি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন হয়েছেও তাই। ডেঙ্গি প্রতিরোধে রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে তার পরিসংখ্যান দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “ডেঙ্গি রোধে রাজ্য সরকার ৪৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে।” মমতা আরও বলেন, “৪৪ হাজার লোক আক্রান্ত হলেও হাতেগোনা কয়েকজন মারা গিয়েছেন। মানুষের মৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু এত লোককে আমরা বাঁচাতে পেরেছি। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাঁচাতে পেরেছেন। সেটাই ইতিবাচক।”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার মাঝেই ওয়াক আউট করেন বাম-কংগ্রেস বিধায়করা। সেই সময়ে আরও রেগে যান মমতা। বলেন, “আপনারা ডেঙ্গি নিয়ে আলোচনা চাইলেন, আবার উত্তর না শুনে ওয়াকআউট করে চলে গেলেন, এটা কাম্য নয়। একটা আইন হওয়া উচিত যে পুরো আলোচনাতেই থাকতে হবে। তাহলেই কোনও বিষয়ে আলোচনা হবে, না হলে নয়।”
বিধানসভার বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলায় এ বছর এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। তাঁর কথায়, “তিন হাজার চিকিৎসক, চার হাজার নার্স এবং ৫১ হাজার সরকারি কর্মী ডেঙ্গি নিয়ে কাজ করছে”। এরপর কংগ্রেস ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির ডেঙ্গি ও সোয়াইন ফ্লুয়ের তথ্য তুলে ধরেন মমতা। উত্তরপ্রদেশে কত আক্রান্ত, কত মারা গিয়েছেন, রাজস্থানের সংখ্যা কী, সব ধরে ধরে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা বিধায়ক অশোক ভট্টচার্যও। তিনি বলেন, “যাঁর এলাকায় ডেঙ্গি সবচেয়ে বেশি তিনি ভাষণ দিয়ে চলে গেলেন। শিলিগুড়ির মেয়রকে তো আগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। ওঁর এলাকার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “স্বাস্থ্যে বাংলা মডেল। কেউ যদি মনে করে ব্যবসার স্বার্থে মিথ্যে ভাষণ দেবেন, সেটা করবেন না প্লিজ।”
যদিও সভার বাইরে বাম-কংগ্রেস বিধায়করা বলেন, ডেঙ্গিতে মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা ভাষণ দিলেন বিধানসভায়। প্রকৃতপক্ষে কতজন মারা গিয়েছেন সেই তথ্য গোপন করলেন। গতকালও ডেঙ্গিতে দু’জনের মৃত্য হয়েছে। তাঁদের একজন কলকাতার অন্যজন মুর্শিদাবাদের। মুখ্যমন্ত্রীই যদি রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করেন তা হলে সেই রাজ্যের জনতা কতটা বিপন্ন তা বোধগম্য।