দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্নের সভাঘরে দলের বিধায়কদের সঙ্গে সম্প্রতি যখন বৈঠকে বসেছিলেন দিদি, তখনই জানিয়েছিলেন, জুলাইয়ের শেষে ফের ডাকবেন তাঁদের। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেও সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই মোতাবেক সোমবার, ২৯ জুলাই নজরুল মঞ্চে দুপুর ২ টৌর সময় তৃণমূলের সমস্ত বিধায়ক, জেলা সভাপতি ও ব্লক সভাপতিদের বৈঠকে ডেকেছেন দিদি।
ইদানীং কালে তৃণমূলের যাবতীয় ঘোষণার জন্য নজরুল মঞ্চ যেন পীঠস্থান হয়ে উঠেছে। কাটমানি ফেরতের ফরমান যেমন এই মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছিলেন দিদি, তেমনই দলের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা এই মঞ্চ থেকেই করেছিলেন।
প্রশ্ন হল, সোমবার কী মহার্ঘ ঘোষণা করতে পারেন দিদি?
এ ব্যাপারে দলের নিচুতলায় অবশ্য স্পষ্ট কোনও ধারনা নেই। তবে শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে চলেছেন দিদি। একদা সিপিএম যে ভাবে বুথ স্তরে ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন, সম্ভবত সেই দাওয়াই দেওয়া হবে।
দলে মমতা ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, প্রতিটি বুথ পিছু চার জন করে হোল টাইমার নিয়োগের কথা বলতে পারেন নেত্রী। রাজ্যে মোট ৭০ হাজার বুথের জন্য ২ লক্ষ ৮০ হাজার হোল টাইমার নিয়োগ করা হবে। এদের পোশাকি নাম অবশ্য হোল টাইমার নাও হতে পারে।
কেন এই পদক্ষেপ? তৃণমূলের নেতাদের মতে, লোকসভা ভোট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, দল কেমন মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এক শ্রেণির দলীয় নেতা কর্মীর আচরণ, দম্ভ, দুর্নীতি এর বড় কারণ। সেই বিচ্ছিন্নতা দূর করা প্রাথমিক লক্ষ্য। সেই সঙ্গে সরকার যে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে সেই বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হবে তাদের কাজ। বড় কথা হল, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব ছবিটা এঁদের কাছ থেকে পেতে চাইছেন প্রশান্ত কিশোর ও মমতা।
তৃণমূলের প্রশান্ত কিশোরের কৌশলের প্রভাব ইদানীং ভালমতোই বোঝা যাচ্ছে। রাজ্যের সরকার যেমন ইদানীং হঠাৎই খুব গণতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে (বিধানসভার অধিবেশন ভাল করে চালানো, প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো), তেমনই দিদি কথা বার্তাতেও অনেক নরম ভাব এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। সংগঠনে রদবদল, বিকেন্দ্রীকরণ – এ সব এ বার শুরু হতে চলেছে।
তবে তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিজেপি-ও বসে নেই। বরং এই কাজ তারা অনেক আগেই শুরু করেছে। বুথ স্তরে সংগঠন তৈরি, ভোটার লিস্টের প্রতিটি পৃষ্ঠায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পন্না প্রমুখ নিয়োগ করা, সদস্যতা অভিযান চালানো জোরকদমে চলছে তাদেরও। ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াইটা ক্রমশই তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যে লড়াইয়ের হাতে নাতে ফল দেখা যেতে পারে আগামী বছর পুরসভা ভোটে।