দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি ব্যুলেটিন জাল করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কোনও কোনও পার্টির আইটি সেল ফেক খবর ছড়াচ্ছে। সরকারি ব্যুলেটিনে উল্টোপাল্টা তথ্য দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। একদিকে কাঁসর ঘণ্টা নিয়ে ভুল বোঝাতে নেমেছে অন্যদিকে ফেক খবর ছড়াচ্ছে।"
এদিনও মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ভুয়ো খবর ছাড়ালে কড়া পদক্ষেপ করবে প্রশাসন। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের করোনা ড্যাশবোর্ড ও রাজ্যের তথ্যের ফারাক নিয়েও দিল্লির সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, "আমরা তো কেন্দ্রের তথ্য নিয়ে চ্যালেঞ্জ করিনি। আমরা যদি ওদের তথ্য বদলে দিই! এটা চ্যালেঞ্জের সময় নয়।"
https://twitter.com/amitmalviya/status/1247016730527813632
চিকিৎসক, নার্সদের পিপিই, মাস্ক নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমরা এখানে ১১ লক্ষ পিপিই অর্ডার দিয়েছি। কেন্দ্রকে বলেছিলাম পাঁচ লক্ষ দিতে, কিন্তু দেয়নি। একটা টাকাও পাঠায়নি।" গতকাল মাত্র তিন হাজার পিপিই এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার রঙ নিয়েও বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন মমতা।
সোমবার সকালে সর্বভারতীয় বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য ধারাবাহিক ভাবে কিছু টুইট করেন। তাতে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সব হাসপাতালের উপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাপ তৈরি করেছেন। যাতে তারা করোনা আক্রান্তের ঘটনা কমিয়ে দেখান এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়। রাজ্য বিজেপির তরফেও একই ধরনের টুইট করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী কেবল আইটি সেলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে চুপ থাকেননি। তিনি আরও বলেন, "কেন্দ্র থেকে যে পিপিই পাঠিয়েছে তার আবার একটা আলাদা রঙ করে দিয়েছে। হলুদ রঙ। কারও কারও বৃহস্পতি তুঙ্গে কিনা! আমি এতদিন জানতাম চিকিৎসক, নার্সদের পিপিই সাদা বা অ্যাশ কালারের হয়। কোথাও কোথাও আকাশি, নীল বা হালকা গোলাপী রঙেরও হয়। কিন্ত হলুদ কোথাও দেখিনি। ব্যাপারটা কী জানতে হবে।"
কেন্দ্রীয় সরকার চা বাগান খোলার কথা বললেও রাজ্য এই মুহূর্তে সে পথে হাঁটছে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মমতা বলেন, "কেন্দ্র আমাদের বলেছে চা বাগান খোলার জন্য। আমরা কথা বলেছিলাম চা বাগানের লোকেদের সঙ্গে। ওঁরা ভয় পাচ্ছেন। কালিম্পংয়ের কেসটার পর আরও ভয় পেয়ে গেছে। সবটা বুঝতে হবে। চা বাগান মানে অসম, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানের বর্ডার। আরও কিছুদিন যাক তারপর আমরা দেখব। এখন বাগান খোলা যাবে না।"