দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন সামগ্রীর পরে এবার রান্নার গ্যাস চুরির অভিযোগ উঠল সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত গ্যাস ডিলারের বিরুদ্ধে। সিলিন্ডারে কম এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) থাকার অভিযোগ তুলে মালদহের ইংরেজবাজারে গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভে উত্তাল হন গ্রাহকরা। যদিও ঘটনার দায় নিতে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ডিলার।
কম গ্যাস দেওয়ায় অভিযুক্ত গ্যাস ডিলারের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখাও। মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান যে, অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।
মালদহের ইংরেজবাজারে গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই গাড়ি আটকে গ্রাহকদের বিক্ষোভ দেখানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মিল্কি ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিকরা। বিক্ষোভরত জনতা বুধবারই পুলিশ আধিকারিকদের সামনে সিলিন্ডার ওজন করে দেখান। সিলিন্ডারের ওজন কম হওয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার-সহ গাড়ি আটক করে পুলিশ। এনিয়ে ইংরেজবাজার থানার নিয়ামতপুরে চাঞ্চল্য দেখা যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিয়ামতপুরে একটি এলপিজি সংস্থার গ্রামীণ বিতরণ কেন্দ্র থেকে একটি গাড়িতে করে গ্যাস সিলিন্ডার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই গ্যাসের গ্রাহকদের প্রতারিত করছেন নিয়ামতপুরের ওই গ্যাস সংস্থার গ্রামীণ বিতরণ কেন্দ্রের মালিক ইন্দ্রজিৎ দাস। নির্ধারিত দাম নেওয়া হলেও ওজনে গ্যাস কম থাকছে। এই অভিযোগ তুলেই এলাকায় আসা গ্যাসের গাড়ি আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুরু হয় একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার ওজন করা। অভিযোগ, গাড়িতে থাকা প্রত্যেকটি গ্যাস সিলিন্ডার ওজন করার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান যে প্রতিটি সিলিন্ডারে পাঁচশো গ্রাম থেকে দু-কিলোগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস কম আছে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই গ্যাসের গাড়ি আটকে শুরু হয় বিক্ষোভ। আসে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের সন্দেহ হচ্ছিল। তাই এলাকার বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে আজ গ্যাস সিলিন্ডারগুলি ওজন করি। ওজন করতেই দেখা গেল প্রত্যেক সিলিন্ডারে গ্যাস কম আছে।” তিনি এব্যাপারে সরাসরি দায়ী করেছেন ডিলারকে। তাঁর অভিযোগ, ওই ডিলারই নিজের গুদামে থাকা গ্যাস চুরি করে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাবিয়া বিবি বলেন, “একটি সিলিন্ডারে আমাদের বাড়িতে দু’মাস মতো রান্না করা যেত। তবে বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি যে তার অনেক আগেই গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না যে কেন এমন হচ্ছে। আজকে এলাকার বাসিন্দারা গ্যাসের সিলিন্ডার ওজন করানোর পরে বুঝলাম যে গ্যাস চুরি করেছেন দোকানের মালিকই।” গ্যাস চুরির অভিযোগে সরব হয়েছেন স্থানীয় নাসিমুল আলি, পিন্টু মন্ডল, পবিত্র ঘোষ-সহ বহু গ্রাহক। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই গ্যাস এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করুক সরকার। সঙ্গে তাঁকে এমন শাস্তি দিক যাতে এই কাজ করতে কেউ সাহস না করে।
গ্রামবাসীদের হাতে আটকে থাকা নিয়ামতপুর ইন্ডেন গ্রামীণ বিতরণ কেন্দ্রের গাড়ির চালক সুজিত গুপ্তা জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যাস সিলিন্ডার ওজন করার পর দেখেন গ্যাস কম আছে। তবে এবিষয়ে গ্যাস এজেন্সির মালিক ইন্দ্রজিৎ দাস বলতে পারবেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রজিৎ দাস। তিনি বল ঠেলে দিয়েছেন গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার কোর্টে। তাঁর বক্তব্য, “গ্যাস কোম্পানিই সিলিন্ডারে কম গ্যাস দিচ্ছে এতে আমাদের কিছু করার নেই।” যদিও পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।