শেষ আপডেট: 2 March 2020 07:23
এই বাড়িতেই থাকেন দম্পতি[/caption]
বয়সের ভারে ক্রমে ভিক্ষের ঝুলি কাঁধে নেওয়ার ক্ষমতাও হারাচ্ছেন দৃষ্টিহীন শুকদেব দাস। প্রতিবন্ধী ভাতা হিসাবে মাসে এক হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল তবে সেই ভাতা মেলে না প্রতি মাসে। অন্য কোনও সাহায্য তিনি পাননি সরকারের তরফ থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর মালদা সফরের কথা জানতে পেরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে তাই তিনি লিখিত ভাবে আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় বিডিওর কাছে।
সরকারের বিভিন্ন দফতরে সাহায্যের জন্য ঘুরেছেন শুকদেব কিন্তু তাঁর অভিযোগ কোনও সাহায্যের আশ্বাস পর্যন্ত মেলেনি। শেষ বয়সে এসেও ভিক্ষে করে দিন কাটাতে হচ্ছে। এখন তাই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখা করতে চাইছেন।
জরাজীর্ণ একটি মাটির বাড়িতে বাস করেন দম্পতি। ঘরের জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু প্রতিশ্রুতি পেলেও ঘর পাননি এখনও। বাড়িতে নেই শৌচালয়। মিশন নির্মল বাংলা সফলতা পেল কিন্তু শুকদেবকে এখনও শৌচকর্মের জন্য যেতে হয় পাশের আমবাগানে, উদাসীর হাত ধরে।
হতাশ শুকদেব জানালেন, আগামী বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মালদায় আসছেন বলে তিনি শুনেছেন। তাই তিনি ঠিক করেছেন সেদিন মালদায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তার অভাব অভিযোগের কথা জানাবেন।
[caption id="attachment_191594" align="aligncenter" width="888"]
শুকদেবের চিঠি[/caption]
তাঁর স্ত্রী উদাসী দাস জানালেন, বিয়ের পর থেকেই তিনি তাঁর অন্ধ স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে বেড়ান। হরিশ্চন্দ্রপুর ছাড়াও মালদার বিভিন্ন হাটে তাঁরা ভিক্ষা করতে যান। ট্রেনেও ভিক্ষা করেন স্বামীর হাত ধরে। ভিক্ষা করে তাঁদের আর কোনও উপায় নেই। এদিকে তাঁদের বাড়িটিও ভেঙে পড়ছে। স্বামী যে ভাতা পায় তাও নিয়মিত মেলে না।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কাকলি দাস বলেন, “আমি অনেকদিন ধরে দেখছি যে ওই দম্পতি ভিক্ষা করেই তাঁদের দিন যাপন করেন। আমি চেষ্টা করব পঞ্চায়েতের তরফ থেকে এই বৃদ্ধ দম্পতির জন্য কোনও সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া যায় কিনা তা দেখতে। এ ব্যাপারে আমি প্রশাসনকে জানাব।”
স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ দাস বলেন, “শুকদেব দাস চোখে দেখতে পাযন না। ছোট থেকেই ভিক্ষা করেন। আমরা চাই উনি যেন সরকারি সুযোগ সুবিধাগুলো ঠিক মতো পান।”
জেলা পরিষদের শিশু নারী ও ত্রাণ কর্মাধ্যক্ষ মর্জিনা খাতুন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ভাতা মাসে এক হাজার টাকা করে পাওয়ার কথা। সেটা উনি নিয়মিত পাচ্ছেন কিনা আমি খোঁজ নেব, এলাকার বিডিওর সঙ্গে কথা বলব। আগামীতে গীতাঞ্জলি প্রকল্প থেকে শুকদেব বাবু যাতে ঘর পান সেই ব্যবস্থা আমি করব।”
হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন, “উনি মানবিক ভাতা কত টাকা করে পাচ্ছেন সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। গীতাঞ্জলি প্রকল্পের ব্যাপারটি পঞ্চায়েত সমিতির উপর নির্ভর করে, সেক্ষেত্রে আমি চেষ্টা করব যাতে এই সুবিধাটা তিনি পান। মিশন নির্মল বাংলার অধীনে প্রতি উঠোন পিছু একটি করে শৌচালয় করে দেওয়া হয়েছিল এক্ষেত্রে সেটি কার্যকর আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখব।”