
শেষ আপডেট: 28 November 2018 09:39
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মঙ্গলবার রাত থেকেই সিঙ্গুরে আসতে শুরু করেছিলেন বাম নেতাকর্মীরা। ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে পালাবদলে সিঙ্গুর ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম হাতিয়ার। আর এ দিন সেখান থেকেই কয়েক হাজার কৃষক, ক্ষেতমজুর ৯ দফা দাবিতে ‘লং মার্চ’ শুরু করল রাজভবনের উদ্দেশে। বৃহস্পতিবার রানি রাসমণি রোডে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই কর্মসূচি।
অনেক দিন পর সিঙ্গুরে অনুষ্ঠিত হলো বামেদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। প্রায় দশ বছর পর এত লালঝাণ্ডা দেখল সিঙ্গুর। একটা সময় ছিল, সিঙ্গুর, কামারকুন্ডু এলাকায় কর্মসূচি লেগেই থাকত বামেদের। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে নিরুপম সেন, সুভাষ চক্রবর্তী থেকে গৌতম দেবরা ঘনঘন সভা করতে যেতেন হুগলির এই জনপদে। কিন্তু সে সব এখন অতীত। মাঝে সুপ্রিম কোর্টও সিঙ্গুর মামলার রায়ে বলে দিয়েছে জমি অধিগ্রহণে তৎকালীন বুদ্ধবাবুর সরকারের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। রাজনৈতিক লড়াই তো বটেই, আদালতের লড়াইতেও বামেদের দশ গোল দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু এখন সেই সিঙ্গুরকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে সিপিএম। দাবি, ওই জমিতে শিল্প স্থাপন করতে হবে।
গতকালই ব্রিগেডের ডাক দিয়েছে বামেরা। এ দিন সিঙ্গুর থেকে পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য হান্নান মোল্লা বলেন, “আগামী দিনে আরও বড় বড় কর্মসূচি নেওয়া হবে বাংলায়।” এমনিতেই সিপিএমের অন্দরে এই আলোচনা রয়েছে, সরকার থেকে চলে যাওয়ার পর, বিরোধী হিসেবে বড় কোনও আন্দোলনই গড়ে তুলতে পারেনি দল। দু’একটা কর্মসূচিতে সাড়া ফেললেও নেতৃত্বের গা ছাড়া মানসিকতার জন্য ধারাবাহিকতা রাখা যায়নি।
যদিও অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএম-বিজেপি আঁতাতের অভিযোগ তুললেও আসলে শাসক দল খুশি। কারণ, বিরোধী ভোট ভাগ হলে আখেড়ে লাভ তৃণমূলেরই। সিপিএমের ভোট যে বিজেপি-তে যাচ্ছে গত নির্বাচনগুলিতে তা পরিষ্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে জুলাইয়ের সমাবেশেও এ নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। এখন দেখার, এই লংমার্চ দিয়ে আদৌ বঙ্গ বামেরা চাঙ্গা হতে পারে কি না। রুখতে পারে কি না ভোটের রক্তক্ষরণ।