
শেষ আপডেট: 29 June 2019 14:45
শববাহী গাড়িতে দলীয় পতাকা লাগাতে চেয়েছিল তৃণমূল। তরুণ নেতার মরদেহ দলের পতাকা দিয়ে ঢেকে শেষ বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন তপন মজুমদাররা। কিন্তু এলাকার মানুষের চাপে তা করতে পারল না শাসক দল। স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ, “কে বলতে পারে তৃণমূলের কোনও লোকই মারেনি ওঁকে!”
ফলে দিলীপ রামের মরদেহে তৃণমূলের পতাকা পড়েনি। গাড়িতেও বাঁধা গেল না জোড়াফুলের ঝাণ্ডা। এক তৃণমূল কর্মী গাড়িতে পতাকা লাগাতে গেলে, দিলীপের প্রতিবেশী একাধিক যুবক বলে ওঠেন, “ঝাণ্ডা মত লাগাও। পহেলে ক্রিমিনাল কো পাকড়ো।” এরপর আর নেতারা ওই দিক ঘেঁষেননি।
মরদেহ নিয়ে প্রতিবেশীরাই রওনা দেন ব্যান্ডেলের দিকে। বেশ কিছুক্ষণ নিহত নেতার দেহ নিয়ে জিটি রোড অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দাবি একটাই। খুনিদের ধরতে হবে। এর মধ্যেই আবার বিজেপি-র চুঁচুড়া জেলা সাংগঠনিক সভাপতি সুবীর নাগ নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। সুবীরবাবু বলেছেন, “আমি শুনেছি, অন্য অনেক রাজনৈতিক নেতার মতোই দিলীপ রামও ভারতীয় জনতা পার্টির উপর তলার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছিলেন।”
ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সত্যিই কি দিলীপ বিজেপি-র পথে এগোচ্ছিলেন? তাই কি এই খুন?
তৃণমূল সকাল থেকেই অভিযোগ করেছে, এই খুনের পিছনে বিজেপি-র হাত রয়েছে। পাল্টা হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “কাটমানির বখরা নিয়েই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। সবটাই তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব।” এর মধ্যেই খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ব্যান্ডেলের কুখ্যাত দুষ্কৃতী লালা পাসোয়ানের ভাই বিজু পাসোয়ানের। লালা আপাতত জেলে রয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, দিলীপকে খুন করতে বিজুকেই ব্যবহার করেছে বিজেপি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে লালাদের সঙ্গে দিলীপদের একটা পুরনো বিবাদ রয়েছে। তবে সেটা রাজনৈতিক নয়।