
শেষ আপডেট: 30 September 2019 12:05
কেন গিয়েছিলেন বাম নেতারা?
সোমবার থেকে মহাত্মা গান্ধীর জন্মের সার্ধ শতবর্ষ উদযাপন শুরু করল প্রদেশ কংগ্রেস। সেই অনুষ্ঠানে বামফ্রন্ট নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিধান ভবনের নেতারা। পার্টি কংগ্রেসের দোহাই দিয়ে কংগ্রেসের আমন্ত্রণ ফেরায়নি আলিমুদ্দিন। শুধু সিপিএম নয়, কংগ্রেস সম্পর্কে যে বাম শরিকদের ‘নাক উঁচু’ ভাব ছিল, সেই আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতারাও এ দিন গেলেন বাংলা কংগ্রেসের সদর দফতরে। স্পষ্ট করে দিলেন, যা দিনকাল পড়েছে, তাতে এক হয়ে লড়াই ছাড়া আর কোনও পথ নেই। লড়াই মানে শুধু ভোট নয়। রাস্তাঘাট, মাঠে-ময়দানের আন্দোলন সংগ্রামের কথা স্পষ্ট করেন বাম নেতারা।
এ দিন বিমানবাবু বলেন, “ধর্মীয় মেরুকরণ যে জায়গায় গিয়েছে, এখন সব গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে এক জায়গায় আসতে হবে।” এটা কি তাহলে নির্বাচন পর্যন্ত চলবে? বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের উত্তর, “ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতের পাতায় লেখা আছে। আগামী দিনে কী হবে, সেটা আগামী দিনই বলবে।”
বিমান বসু আরও বলেন, “সোমেনবাবুরা আমাদের ডেকেছিলেন। আমরা এসেছিলাম। তারপর বললেন, চা খেয়ে যাবেন না? বাঙালি তো আর গল্প ছাড়া চা গ্রহণ করে না। এটা বাঙালির রীতিবিরুদ্ধ। তাই আমরাও চা খেতে খেতে কিছু কথা বললাম।” তবে কী কথা হয়েছে তা অবশ্য খোলসা করেননি বাম-কংগ্রেস কোনও নেতাই। লোকসভায় জোট ভেস্তে যাওয়ার পর যে বিমান বসু বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই কোনও টাকা পয়সার লেনদেন হয়েছে”, সেই বিমান বসু এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনের আগাগোড়া মুচকি মুচকি হেসে গেলেন। পর্যবেক্ষকরা যা দেখে বলছেন, বোঝার জন্য ইশারাই যথেষ্ট।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, “আমরা বিমানবাবুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ওঁরা এসেছেন। আমরা কৃতজ্ঞ।” বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতাকে প্রশ্ন করা হয়, ওই বাড়ি তো এই বাড়িতে এল, এই বাড়ি কবে ওই বাড়িতে যাবে? সোমেন মিত্র বলেন, “ওই যে বিমানদা বললেন, ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতই বলবে।”