দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে বিজেপি নেতা মুকুল রায়, তো অন্যদিকে চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। একই দিনে দু'জায়গায় জেরার মুখে পড়লেন তাঁরা। একদিকে যখন দিল্লিতে মুকুল রায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে জেরা করল কলকাতা পুলিশ, তখন অন্যদিকে সারদা কাণ্ডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ( ইডি ) দফতরে হাজিরা দিলেন শুভাপ্রসন্ন।
শুক্রবার সকালেই কলকাতা পুলিশের একটি দল মুকুলবাবুর ১৮১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে যান। পুলিশ সূত্রে খবর, আগে থেকেই বিজেপি নেতার সঙ্গে দিন-সময় ঠিক করা ছিল। সেইমতো এ দিন বেলা ১১টায় যান তাঁরা। বাড়িতেই ছিলেন মুকুলবাবু। জানা গিয়েছে, প্রায় ২ ঘণ্টা মুকুল রায়কে জেরা করেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তাঁরা। অবশ্য কী কথা হয়েছে, সে ব্যাপারে পুলিশ বা মুকুলবাবু, কেউ কিছু জানাননি।
অন্যদিকে শুক্রবার সকালেই সারদা কাণ্ডে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে যান একসময়ের মমতা ঘনিষ্ঠ চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। ইডি সূত্রে খবর, সারদার মালিক সুদীপ্ত সেন একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যম শুভাপ্রসন্নর কাছ থেকে কিনেছিলেন। সেই চ্যানেল বিক্রির ব্যাপারে কত টাকার চুক্তি তাঁদের মধ্যে হয়েছিল, সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই ডেকে পাঠানো হয়েছিল শিল্পীকে। তাঁর কাছে বেশ কিছু নথিও চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ দিন তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে কল্যাণরাজ বলওয়ান নামের এক ব্যক্তিকে ৯০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ-সহ গ্রেফতার করে বড়বাজার থানা। পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞেসাবাদ করেই মুকুল রায়ের নাম জানা যায়। তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হয় প্রতারণা ও দূর্নীতির মামলা। ধারাবাহিক হাজিরা না দেওয়ায় ব্যাঙ্কশাল কোর্টের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। নির্দেশ দেন একমাসের মধ্যে কার্যকর করতে হবে।
কিন্তু শুক্রবার সেই মামলার শুনানির পর দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, আগামী দশ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা যাবে না মুকুল রায়কে। একই সঙ্গে দিল্লি হাইকোর্ট বলে, ওই কেসের তদন্তকারী অফিসার ইচ্ছে করলে মুকুলবাবুকে দিল্লিতে গিয়ে জেরা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে মুকুলবাবুকে সহযোগিতা করতে হবে। এর মধ্যে মুকুলবাবু রক্ষাকবচের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। তারপরেই দিল্লিতে যায় কলকাতা পুলিশ।
এর আগেও সারদা কাণ্ডে একাধিকবার শুভাপ্রসন্নকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি ও সিবিআই। জানা গিয়েছে, সেই সময় চিত্রশিল্পীর বক্তব্যে কিছু ধোঁয়াশা থাকাতেই এ দিন ফের তাঁকে ডেকে পাঠায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অবশ্য এই ব্যাপারে দু'তরফেই কোনও মন্তব্য করা হয়নি। মাসখানেক ধরেই চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। গত কয়েকদিনে শতাব্দী রায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতো হেভিওয়েট নামরা হাজির হয়েছিলেন তাদের দফতরে। এমনকী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় তো সারদা থেকে পাওয়া টাকা ইডিকে ফেরত দেবেন বলে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন বলে খবর।