দুর্নীতির অভিযোগে বাঁকুড়ার ইন্দাসে বন্ধ করা হল রেশন দোকান, কম জিনিস দেওয়ার অভিযোগ মেদিনীপুরের ডিলারের বিরুদ্ধে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যেই রেশন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হল বাঁকুড়ার ইন্দাসের হরিপুর গ্রাম। একই দিনে রেশনে কম পরিমাণে জিনিস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের বনপুরা গ্রামেও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রেশন সামগ্রী অন্যত্র লুকিয়ে
শেষ আপডেট: 18 April 2020 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যেই রেশন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হল বাঁকুড়ার ইন্দাসের হরিপুর গ্রাম। একই দিনে রেশনে কম পরিমাণে জিনিস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের বনপুরা গ্রামেও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রেশন সামগ্রী অন্যত্র লুকিয়ে রেখে দীর্ঘ দিন ধরেই গ্রাহকদের প্রাপ্যর চেয়ে কম পরিমাণে রেশন দিচ্ছিলেন বাঁকুড়ার ইন্দাসের হরিপুর গ্রামের রেশন ডিলার অমিতকুমার দাস। এদিন সকালে সংশ্লিষ্ট দফরের আধিকারিকরা ওই রেশন দোকান পরিদর্শন করে ফিরে যাওয়ার পরে দোকানের মালিক তাঁর গোপন আস্তানা থেকে রেশনের সামগ্রী বের করছিলেন। তখনই বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে পড়ে।
এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা রেশন দোকানের মালিককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ইন্দাস থানার পুলিশ ও খাদ্য সরবরাহ দফরের আধিকারিকরা। গ্রামবাসী কাশিনাথ পরিজা, কৃষ্ণা দাস মাজি, বুল্টি মাজিরা বলেন, বাড়ির মালিককে না জানিয়ে গোপনে রেশনের চাল লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই রেশন ডিলার। এনিয়ে গ্রামের মহিলারা প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওই চাল নিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। তাঁরা অবশ্য ওই রফাসূত্রে রাজি হননি। বিষয়টি লিখিত ভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ওই রেশন দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইন্দাসের খাদ্য পরিদর্শক দেবকুমার রায় বলেন, “আমরা পুরো বিষয়টি জেনেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাঁরা এব্যাপারে যা পদক্ষেপ করার করবেন।”
প্রাপকদের রেশনের জিনিস কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের বনপুরা গ্রামের রেশন ডিলার আসাদুল হকের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ তুলে শনিবার সকালে রেশন ডিলারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই রেশন ডিলার প্রতিটি গ্রাহককে তাঁদের পাওনার চেয়ে কম পরমাণে রেশন দিয়ে আসছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে এমনকি দোকান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

রেশন ডিলার আসাদুল হক গ্রামবাসীদের অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, “যাঁর যা প্রাপ্য তাঁকে ততটাই দেওয়া হচ্ছে। এ হল আমার বদনাম করার রাজনৈতিক চক্রান্ত।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও মেদিনীপুর সদর বিডিও অফিসের আধিকারিকরা। সাত নম্বর পাঁচখুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মুদেশ্বর দিগার এপ্রসঙ্গে বলেন, “এলাকার লোকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। আমরাও প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানাব।” মেদিনীপুর সদরের মহকুমাশাসক দীননারায়ণ ঘোষকে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।