দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের আগে এবার বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া গেল মালদার কালিয়াচকে। পুলিশ ও স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ হানায় উদ্ধার হয়েছে বিপুল অত্যাধুনিক অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। একটি বাড়ির ছাদের ঘরে এই ব্যবসা চলত বলেই জানিয়েছে পুলিশ। অস্ত্র কারখানার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দু’জনকে। তাদের বাড়ি বিহারের মুঙ্গের জেলায়। এছাড়া বাড়ির মালিককেও আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, কালিয়াচক থানার আলিপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের করারী চাঁদপুর গ্রামে উদ্ধার হয়েছে এই অস্ত্র কারখানা। এলাকার বাসিন্দা রকিবুল শেখের বাড়ির ছাদে একটি গোপন ঘরে তৈরি হত অস্ত্র। বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না যে ভিতরে এই কর্মকাণ্ড চলছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই এই অস্ত্র কারখানার খবর গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে আসছিল। অবশেষে শনিবার গভীর রাতে সেই বাড়িতে হানা দেয় কালিয়াচক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও এসটিএফ আধিকারিকরা। ছাদে গিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে চোখ কপালে উঠেছিল পুলিশের। বিপুল সংখ্যায় অত্যাধুনিক অস্ত্র মজুত করা ছিল সেখানে। সঙ্গে সঙ্গে রকিবুলকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা মহম্মদ আজম ও মহম্মদ ফারুখ আলম নামের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজমই এই ব্যবসার পিছনে প্রধান মাথা বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কারখানাটি থেকে মূলত সেভেন এম এম পিস্তল-সহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হত। ঘটনাস্থল থেকে একটি তৈরি ও সাতটি অসম্পূর্ণ সেভেন এম এম পিস্তল-সহ বিপুল পরিমাণে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
ধৃত আজম ও ফারুখকে এদিন মালদা জেলা আদালতে পেশ করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। কারণ কতদিন ধরে এই কারখানা চলছে, আরও কারা কারা এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, কারখানা থেকে কোথায় কোথায় অস্ত্র বিক্রি করা হত এই সব অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচারকারী দলের যোগ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নির্বাচনের আগে এভাবে লোকালয়ে অস্ত্র কারখানার হদিশ মেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।