দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ বার ব্রিগেডেও তিনি ছিলেন সেনাপতি। সেটা তিন বছর আগে। ২০১৫-র ২৭ ডিসেম্বর। ষোলোর ভোটের মহড়া দিতে সর্বভারতীয় প্লেনাম উপলক্ষে সে বার ব্রিগেড ডেকেছিল সিপিএম। সভা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। শুরুতে নিজে নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দেন। আবার সবার বলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর স্বভাববিরুদ্ধ ভাবেই স্লোগান দিয়েছিলেন মাঠে আসা কর্মী সমর্থকদের তাতাতে। এই তিন বছরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ভেঙেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শরীর। কার্যত শয্যাশায়ী বর্ষীয়ান এই সিপিএম নেতা। তাই ৩ ফেব্রুয়ারি বাম ব্রিগেডে মিরাক্ল না হলে থাকতে পারছেন না বুদ্ধবাবু। শেষ পর্যন্ত তিনি যদি নাই আসেন, তাহলে গত প্রায় আড়াই দশকে এই প্রথম ব্রিগেড হবে, যেখানে বুদ্ধবাবু থাকবেন না।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রীর পাশে যত তারকা তাঁদের ডিরেক্টর শ্রীকান্তই: সূর্য
দীর্ঘদিন ধরেই গৃহবন্দি তিনি। সমস্যা রয়েছে চোখে। আলো পড়লে কষ্ট হয় তাঁর। আসেন না দলের রাজ্য দফতরেও। গত দু’দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, অসুস্থতা কাটিয়ে বুদ্ধবাবু নাকি আলিমুদ্দিনে এসেছেন। তিন বছর আগের একটি খবরের কাগজের কাটিং ঘুরতে থাকে সিপিএম কর্মীদের ফেসবুক ওয়াল, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। তাঁর বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে যিনি দেখভাল করেন সেই ব্যক্তি বলেন, “দাদার শরীর আগের মতোই আছে। ব্রিগেডে যেতে পারবেন বলে মনে হয় না।”
তবুও আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা চেষ্টা করছেন যদি মিনিট পাঁচেকের জন্য হলেও তিনি আসতে পারেন। সিপিএমের এক নেতার কথায়, সেটাও যদি হয় তাহলে সেটা ঠিক হবে ৩ তারিখ বেলাতেই। আবহাওয়া যদি মেঘলা থাকে তাহলে কোনওভাবেই বুদ্ধবাবু বেরতে পারবেন না।

এটা আজকে বলে নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই হালকা বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়া দিলে বাইরে বেরোনো বুদ্ধবাবুর শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রসঙ্গত, ২০১৩-র ডিসেম্বরে হুগলির চুঁচুড়া গোর্খা গ্রাউন্ডে সিপিএমের সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বুদ্ধবাবু। সে সিন সকাল থেকেই ঝড়-বৃষ্টির দাপট। আলিমুদ্দিন থেকে হুগলি সিপিএম-কে জানিয়ে দেওয়া হয় আসবেন না বুদ্ধবাবু। পরিবর্ত বক্তা হিসেবে ঠিক হয় সূর্যকান্ত মিশ্রকে পাঠানো হবে। কিন্তু ভোর বেলার ধৌলি এক্সপ্রেস ধরে সূর্যবাবু তখন বালেশ্বর যাবেন বলে ট্রেনে উঠেছেন। ট্রেন ছাড়বে ছাড়বে এমন সময়ই ফোন যায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা সূর্যবাবুর কাছে। ফোন রাখতে রাখতে ট্রেন ছেড়েও দেয়। চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে পড়েন সূর্য মিশ্র। তারপর তিনিই বক্তৃতা করেন বুদ্ধবাবুর বদলে।
সিপিএমের এক নেতার কথায়, এখনও বুদ্ধবাবু দলের মধ্যে একমাত্র ক্রাউডপুলার। মঞ্চে উঠে হাত নাড়লেও উদ্বেলিত হবে মাঠ। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবিন দেব জানান, “বুদ্ধদার যা শরীরের অবস্থা তাতে ব্রিগেডে আসা মুশকিল।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আসতে না পারলেও বিকল্প হিসেবে সমাবেশে তাঁর বার্তা পাঠ করতে চান সিপিএম নেতৃত্ব। এখন দেখার বাম ব্রিগেড কি সত্যিই বুদ্ধহীন হয়, নাকি......!
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-mamata-target-of-sarcasm-from-surjyakanta-mishra-over-srikant-arrest/