দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দিনের মধ্যে দু’বার। বীরভূমের মুরারইয়ের পরে এবার জেলারই রামপুরহাট থেকে উদ্ধার হল প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে সোমবার গভীর রাতে রামপুরহাট থানার পুলিশ একটি ট্র্যাক্টর ভর্তি জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করে। ট্র্যাক্টরটির সঙ্গে একটি মোটর বাইকও ছিল। পুলিশ দুটি গাড়িকেই আটক করেছে তবে এই ঘটনায় তারা কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
নলহাটি থানার লক্ষ্মীনারায়ণপুর থেকে গাড়িতে করে বিস্ফোরক আসছে বলে গোপন সূত্রে খবর পায় পুলিশ। সেই মতো রামপুরহাট থানা এলাকার জেলপাতরা গ্রামে তারা ওৎ পেতেছিল। পুলিশ দেখতে পেয়ে ট্র্যাক্টরে থাকা তিন জন ও মোটরবাইকে থাকা এক জন সন্দেহভাজন গাড়ি ও বিস্ফোরক রেখে পালিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ মোট ২৬ বস্তা জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করে। তবে পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ধরতে পারেনি।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মনে করছে এই বিস্ফোরক অন্য কোনও রাজ্য থেকে আনা হচ্ছিল পাথরখাদানে বিস্ফোরণের জন্য। সরকারি ভাবে বীরভূম জেলায় এখন পাঁচ থেকে ছ’টি পাথরখাদান বর্তমানে চলছে। জেলায় মোট পাথরখাদানের সংখ্যা এখন দুশো দশটি। সূত্রের খবর, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অন্তত ১৮০টি খাদান চলছে অবৈধ ভাবে। এই সব খাদানের জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক। এই অবৈধ খনিতে বিস্ফোরণের জন্য জিলেটিন স্টিক ও বিস্ফোরক আনা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। মহম্মদবাজারের দিকে এখন পাথরখাদান খুঁড়তে গেলেই কয়লা উঠে আসছে। তাই পাথরের জন্য বেশি নজর রামপুরহাট মহকুমার দিকেই।
এর আগে গত ২৭ জুন রাতে সিআইডি এবং মুরারই থানার পুলিশ যৌথ ভাবে অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করেছিল। সেদিন মুরারই থানা এলাকার আমভুয়া গ্রামে একটি গাড়িতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং একটি বিস্ফোরক নিরোধক গাড়ি থেকে ডিটোনেটর উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় মুকেশ সিং নামে এক জনকে ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে ওই ব্যক্তি মূলত লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তাকে জেরা করে বিস্ফোরক পাচার চক্রের বাকিদের সম্বন্ধে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
২৭ জুন উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক পাচারের সঙ্গে এদিন উদ্ধার হওয়া এদিন পাচারের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পলাতক চার সন্দেহভাজনকে ধরার চেষ্টা করছে তারা। খুব শীঘ্রই উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু হবে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।