দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শুরুতে দেখে মনে হয়েছিল, কোভিড আবহে যথেষ্ট সচেতন সাধারণ মানুষ। ফলে স্টেশন থেকে শুরু করে ট্রেনের ভিতরে ছবিটা ছিল খুবই স্বস্তিদায়ক। কিন্তু বেলা গড়াতেই বদলে গেল ছবিটা। লোকাল ট্রেনের ভিতরের সেই পুরনো ছবি। একই ছবি দেখা গেল স্টেশন চত্বরেও। ট্রেনের ভিতরে গাদাগাদি করে ভিড়। ফলে শিকেয় উঠল কোভিড বিধি।
বর্ধমান স্টেশনে সকালের দিকে ছবিটা ছিল অন্যরকম। স্টেশন ও ট্রেনে ছিল হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী। ফলে নির্দিষ্ট দূরত্ববিধি মেনে ও অন্যান্য নিয়ম মেনেই যাতায়াত করছিলেন তাঁরা। কিন্তু বেলা বাড়তেই দেখা গেল মেন ও কর্ড শাখায় একের পর এক স্টেশনে বাড়ছে ভিড়। স্টেশনের বাইরে থার্মাল স্ক্রিনিং করা হলেও ও মাস্ক পরার জন্য রেল পুলিশ কড়াকড়ি করলেও ট্রেনের ভিতরের ছবিটা একদমই আলাদা।
লোকাল ট্রেন বন্ধ হওয়ার আগে অফিস টাইমে যেরকম ভিড় দেখা যেত, সেরকমই ভিড় দেখা যাচ্ছে এখনও। তার ফলে কোনও দূরত্ববিদ্ধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি অনেকে কোভিড প্রোটোকলও মানছেন না। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের সংখ্যা এই মুহূর্তে আরও বাড়াতে হবে। তার জায়গায় তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের তো যেতেই হবে। তাহলে কীভাবে কোভিড বিধি মেনে চলা যাবে। তাই কোনও নিয়মই মানা হচ্ছে না।
প্রায় ৮ মাস পর ট্রেনের চাকা গড়ালো বাংলায়। প্রথম দিকে যাত্রী সংখ্যা একটু কম থাকলেও বেলা বাড়তেই চেনা ছন্দে ফিরেছে অন্যতম দুই ব্যস্ত স্টেশন হাওড়া এবং শিয়ালদহতেও। টিকিট কাউন্টারেও ছিল যাত্রীদের লম্বা লাইন। গতকাল রাত ২টো ৫০ মিনিটে প্রথম মেদিনীপুর লোকাল ছাড়ে হাওড়া স্টেশন থেকে। তখন অবশ্য যাত্রীসংখ্যা ছিল হাতে গোনা। তবে সকাল থেকে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কোভিড সংক্রমণ রুখতে ঘন ঘন স্যানিটাইজ করা হচ্ছে স্টেশন চত্বর। যাত্রীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না কোনও হকার। তৎপর রয়েছে রেল পুলিশ।
অন্যদিকে, ভোর ৩টে ৫ মিনিটে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার পরিষেবা চালু হয়। ক্যানিং স্টেশন থেকে শিয়ালদহের দিকে রওনা হয় আপ ক্যানিং লোকাল। যাত্রী সংখ্যা ছিল ১১৫ জন। এদিন প্রথম থেকেই সুন্দরবনের প্রবেশ দ্বার ক্যানিং ষ্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষার জন্য ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সহ আরপিএফ, জিআরপি পুলিশের সংখ্যা ছিল নজরকাড়া। সাধারণ যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়েন। সব যাত্রীদের মুখে ছিল মাস্ক।
তবে হাওড়া এবং শিয়ালদহ দুই স্টেশনেই টিকিট কাউন্টারে ছিল লম্বা লাইন। সেখানে যাত্রীরা কতটা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পেরেছেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, দক্ষিণ শাখায় একগাদা অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন থাকলেও কাজ করছে না একটাও। অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীরা গোল দাগের ভিতর না দাঁড়িয়ে গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। শুধু তাই নয়, ট্রেন থেকে নামার পর যাত্রীদের যে ঢল আগে দেখা যেত সেই একই ছবি রয়েছে শিয়ালদহ এবং হাওড়ায়। শিকেয় উঠেছে বিধিনিষেধ। সেই ছবিই দেখা গেল বর্ধমানেও।