দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: চিকিৎসা দূরের কথা রক্তচাপ পর্যন্ত মাপা হচ্ছে না। আর খাওয়াদাওয়াও তথৈবচ। উত্তর হাওড়ার জয়সওয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে তা ফেসবুকে দিয়ে দেন সেখানে কোভিড-১৯ নিয়ে ভর্তি থাকা মৌমিতা ঘোষ। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা এবং খাওয়াদাওয়ার হাল নিয়ে মৌমিতার পোস্ট করা ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার পরেই রোগীর মোবাইল ফোন হাসপাতাল কর্ত়ৃপক্ষ কেড়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ।
হাওড়ার টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালে দিন ছয়েক আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন মৌমিতা। তাঁর অভিযোগ, তিনি প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। ঠিক মতো চিকিৎসা দূরের কথা ব্লাড প্রেশার পর্যন্ত মাপা হচ্ছে না। পচা ডিম দেওয়া হচ্ছে খাবারে। বারবার বলা সত্বেও কেউ সে সবে কর্ণপাত করছেন না। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
তাঁর অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হওয়ার পরে সোমবার রাতে ওই হাসপাতালে যান রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তিনি মৌমিতা ঘোষের ওয়ার্ডে অবশ্য যাননি। প্রথমে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি হাসপাতালের কর্মীদের নির্দেশ দেন সব করোনা আক্রান্ত রোগীদের যেন ঠিক মতো খেয়াল রাখা হয়।
শালকিয়ার বাসিন্দা মৌমিতার বাবাও করোনায় আক্রান্ত। তিনি অন্য হাসপাতালে ভর্তি। দিন ছয়েক আগে জয়সওয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন মৌমিতা। নিম্নমানের খাবার ও চিকিৎসা পরিষেবার অভাবের পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, শৌচালয়ে জল পর্যন্ত নেই। তাঁর অভিযোগ, ফেসবুকে তাঁর পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পরে তাঁর কাছে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। নিজেরে মন্ত্রীর পিএ পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁদের উপরে চাপ আসছে উপরমহল থেকে। ওই ভিডিওটি যেন মুছে ফেলা হয়। এ ব্যাপারে মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলেন তাঁর দফতর থেকে এই ধরনের কোনও ফোন করা হয়নি। ওই নম্বরটি তিনি জেলাশাসক ও হাওড়ার পুলিশ কমিশনারকে দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওই নম্বরটি জয়সওয়াল হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বলে অভিযোগ। যদিও অভিযুক্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন তিনি এই ধরনের কোনও ফোন করেননি।
করোনায় আক্রান্তরা মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন বলে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মৌমিতার পোস্ট ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব রোগীর মোবাইল ফোন জমা নিয়ে নিয়েছে। হাসপাতালের সুপার সুখেন্দু বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে মোবাইল ফোনের অনুমতি নেই। ওঁর ঠিক চিকিৎসাই হচ্ছে। উনি মিথ্যা বলছেন।” মৌমিতা অবশ্য তাঁর মোবাইল ফোন জমা করেননি। তিনি এ ব্যাপারে লিখিত নির্দেশিকা দেখতে চেয়েছেন।