
শেষ আপডেট: 26 August 2019 10:42
প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলের মিড ডে মিল নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল হুগলির বাণী মন্দির প্রাথমিক স্কুল থেকে। স্থানীয় সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় একদিন ওই স্কুলে গিয়ে দেখেন ছাত্রছাত্রীরা শুধু নুন দিয়ে ভাত খাচ্ছেন। তার পরই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে হই হই পড়ে যায়।
দু’দিন বাদে দেখা যায় হুগলির জেলা শাসক রত্নাকর রাও একটি প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে ডিম দিয়ে ভাত খাচ্ছেন। তার পর শনিবার নোটিফিকেশন জারি করে রত্নাকর জানিয়ে দেন, হুগলি জেলায় মিড ডে মিলে মেনু বদলে যাচ্ছে। তাতে গোটা গোটা শব্দে লেখা ছিল সোম থেকে শনিবারের মেনু। এও বলা হয়েছিল, বুধবার মিড ডে মিলে ছাত্রছাত্রীদের পাতে পড়বে মুরগির মাংস, বৃহস্পতিবার সেদ্ধ ডিম আর শনিবার ঝোলের ডিম।
ওই দিনই নোটিফিকেশন জারি করেছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলাও। জেলা শাসক পার্থ ঘোষের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতেও ৬ দিনের মেনু স্পষ্ট জানানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে পরিষ্কার করে লেখা ছিল, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার মিড ডে মিলে ডিম বা মাছ খাওয়ানো হবে ছাত্রছাত্রীদের।
হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসকের জারি করা ওই নোটিফিকেশনের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন লেখা হয়েছিল দ্য ওয়ালে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেই তা করা হয়েছিল। কোনও আষাঢ়ে গল্প লেখা হয়নি।
অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, দুই জেলার জেলা শাসক এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দিলেন অথচ মুখ্যমন্ত্রী জানেন না? এমন ভাবে প্রশাসন চলতে পারে?
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে হুগলির জেলা শাসক রত্নাকর পাণ্ডে এ দিন শুধু বলেন, “শিশুদের প্রোটিন খাবার দিতে হবে তো! ডিম যদি না দেওয়া যায়, তা হলে সয়াবিন দিতে হবে”।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে মিড মিলের জন্য যে খরচ হয় তা কিন্তু কোনও সরকার একা দেয় না। প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রপিছু ২ টাকা ৪৮ পয়সা দেয় কেন্দ্র সরকার। রাজ্য সরকার দেয় ১ টাকা ৬৫ পয়সা। উচ্চ প্রাথমিক স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য মাথাপিছু ৩ টাকা ৭১ পয়সা দেয় কেন্দ্র, রাজ্য দেয় ২ টাকা ৪৭ পয়সা। এ ছাড়া পরিকাঠামো নির্মাণ, খাদ্য পণ্যের পরিবহণ, রাঁধুনির বেতন ইত্যাদি বাবদ অনুদায় দেয় কেন্দ্রের সরকার।