দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি: পাহাড়ের ব্যাপক বৃষ্টির ফলে তরাই অঞ্চলের জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। দার্জিলিং শহর ও তার আশপাশে সে ভাবে বৃষ্টি না হলেও সামগ্রিক ভাবে পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। বৃষ্টি হচ্ছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে।
বৃষ্টির ফলে দার্জিলিংয়ের কাছে মেরিচিল্লায় মঙ্গলবার ধস নামে। তবে প্রশাসনিক তৎপরতায় সকালেই রাস্তা সাফ করে ফেলা হয়। শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াংয়ের রাস্তায় পাঙ্খাবাড়ি রোডে অন্তত তিন জায়গায় এদিন ধস নামে। রাস্তা না ভাঙলেও পাহাড় ধসে রাস্তা সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। মিরিকের কাছে গয়াবাড়ি যাওয়ার রাস্তাতেও ধস নেমেছে। তবে তাও দ্রুত সাফ করে ফেলে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে তোলে প্রশাসন। কোনও ধসই অবশ্য তেমন বড় ছিল না।
ডালির কাছে ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়কে রাস্তা সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও এখন সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেছে। প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ের সুখিয়াপোখরির কাছে মানেভঞ্জন-রিম্বিক রোডের ক্ষতি হয়েছে। এই রাস্তায় আপাতত ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে হালকা গাড়ি চলাচল করছে। কার্শিয়াংয়ে ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে সেলিম হিলে ধস নেমেছে।
৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ও পাঙ্খাবাড়ি সড়ক বন্ধ থাকার জন্য এখন সব গাড়ি রোহিনী হয়ে যাতায়াত করছে। রাস্তা বন্ধ থাকার জন্য প্রয়োজনেও কার্শিয়াং হাসপাতালে যেতে পারছেন না অনেকে। তাতে সমস্যা বেড়েছে। রাস্তা চালু হতে আজ সারা দিন লেগে যেতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
আচমকা ধসের ফলে মঙ্গলবার দুপুর দুটো নাগাদ তিনধারিয়ায় একই পরিবারের তিন জন আহত হয়েছেন। তাঁদের শিলিগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। যখন তাঁরা ঘরের মধ্যে ছিলেন তখন আচমকাই ধস নামে। অনেকে ধসের শব্দ শুনে পালিয়ে যান। ওই তিন জন পালাতে পারেননি।
পাহাড়ে বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন নদীর জলের স্তর অনেকটাই বেড়েছে। ওদলাবাড়ির কাছে বাগড়াকোটে জুড়ন্তি সেতুর একাংশ এদিন ধসে যায়। এই সময়ে অসম থেকে শিলিগুড়ি বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান পড়ে গেলে রাজু শেখ (৪০) ও দেবরাজ সাহা (২৫) নামে দু’জনের মৃত্যু হয়। তাঁরা অসমের গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ তাদের দেহ জলপাইগুড়িতে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। শিলিগুড়ির সঙ্গে ডুয়ার্স ও অসমে যোগাযোগের এটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। মালবাজারের এসডিপিও দেবাশিস চক্রবর্তী জানান, এটি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের অংশ। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এসেছে। মেরামতি শুরু হয়েছে।
বাগরাকোট গ্রাম পঞ্চায়েতের চান্দা কোম্পানি এলাকায় লিশ নদীর জলের তোড়ে স্থানীয় রেল সেতুর এক দিকের মাটি ধসে যায়। এর ফলে রেললাইনটি ঝুলে পড়ে। খবর পেয়েই ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় উত্তর-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। এখন আনলক পর্বে মূলত মালগাড়িই চলাচল করছে। সেগুলি থামিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধকালীন তৎপররতায় এখানে সেতু মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে অতিবৃষ্টির ফলে এই ব্রিজের অ্যাপ্রোচ অংশটি ভেসে গিয়েছিল।
শিলিগুড়ির দাগাপুর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পঞ্চনই নদীর সেতু। পাতিকলোনি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অস্থায়ী একটি লোহাপুল। এই সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টির জেরে পানিঘাটা এলাকায় বেশ কয়েক জায়গায় ধস নেমেছে। মিরিক রাজ্য সড়ক ছাড়াও ধস নেমেছে দুধিয়া ও পানিঘাটার মধ্যে সংযোগকারী রাস্তাতেও। তার ফলে সেবক হয়ে ডুয়ার্স যাওয়ার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি এখন ঠিক কী এবং পাহাড়ে বৃষ্টির জেরে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।