দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর কীসের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ হচ্ছে, তা বাংলায় আসা ইস্তক নবান্নের কাছে জানতে চাইছিল কেন্দ্রীয় টিম।
শুক্রবার কলকাতায় আসা আন্তঃমন্ত্রক টিমের প্রধান অপূর্ব চন্দ্র মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে চিঠিতে জানিয়েছেন, এই প্রশ্ন করাতে স্বাস্থ্য দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি তাঁকে কী যুক্তি দিয়েছিলেন! প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্রের দেওয়া ওই চিঠি থেকে জানা গিয়েছে, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি তাঁদের বলেছিলেন, “যদি কোনও কোভিড রোগী পথ দুর্ঘটনায় মারা যান, তা হলে বলা যায় না তাঁর কোভিডে মৃত্যু হয়েছে”।
প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির এ হেন যুক্তি শুনে কেন্দ্রীয় টিমের সদস্যরা যে বিস্মিত হয়েছিলেন তা চিঠির বক্তব্যেই বোঝা গিয়েছে। অপূর্ব চন্দ্রের পাল্টা বক্তব্য, “পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু আর রোগের কারণে হাসপাতালে মৃত্যুর মধ্যে তো কোনও তুলনাই চলে না।” তাই এ ব্যাপারে নবান্নের কাছে আরও ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন তিনি। যে সমস্ত কোভি়ড আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুকে অন্য কারণে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে তাঁদের কেস রিপোর্টও চেয়েছে কেন্দ্রীয় টিম। এমনকি মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য নবান্ন যে অডিট টিম গঠন করেছে, তার সদস্যের সঙ্গেও কথা বলতে চেয়েছেন কেন্দ্রীয় টিমের সদস্যরা। জানা গিয়েছে, আইসিএমআর-এর গাইডলাইন এবং স্বীকৃত মেডিকেল প্র্যাকটিস অনুযায়ী মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা তা ওই অডিট টিমের চিকিৎসকদের থেকে জানতে চাওয়া হবে।
ঘটনাচক্রে এ দিন বিকেলে নবান্নে প্রেস কনফারেন্সে মুখ্য সচিব জানান, বাংলায় করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ৫৭ জন রোগীর এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে। এঁদের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যুর কারণ কোভিড। বাকি ৩৯ জনের শরীরে কোভিডের উপস্থিতি ছিল ইন্সিডেন্টাল। অর্থাৎ হৃদরোগ বা কিডনি ফেল করার মতো রোগে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কেন্দ্রীয় কমিটির ঠ্যালাতেই আজ এই পরিসংখ্যান সরকার ঘোষণা করল কিনা! কারণ, এর আগে বহুবার এ ব্যাপারে তাঁর কাছে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু তখন জবাব মেলেনি। এর উত্তরে মুখ্য সচিব বলেছেন, অডিট কমিটির কাছে একটা রিপোর্ট অনেক দিন ধরেই চাইছিল সরকার। সেই রিপোর্ট আজ তাঁর হাতে এসেছে। এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির চিঠির কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে কেন্দ্রীয় কমিটি এর পরেও নবান্নের থেকে পাঁচটি বিষয়ে জবাব চাইছে। তা হল—
১) কোভিডে আক্রান্তদের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য ডাক্তারদের কমিটি গঠনের যে নির্দেশ/বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল নবান্ন তার প্রতিলিপি দিতে হবে।
২) যে সব কোভিড আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুকে অন্য কারণে মৃত বলে ঘোষণা করেছে কমিটি তার কেস রেকর্ড।
৩) কোনও কোভিড আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য কত সময় নিয়েছে ডাক্তারদের কমিটি ?
৪) পশ্চিমবঙ্গে অন্য কোনও রোগে মৃত্যুর ক্ষেত্রেও কি এভাবে কোনও কমিটি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখে ?
৫) এই ধরনের কমিটির গঠন কি আইসিএমআর –এর গাইডলাইন বা চিকিৎসা ব্যবস্থার নিয়ম মেনে হয়েছে ?
রাজ্য সরকার ওই প্রশ্নের জবাবে কী বলে এখন সেটাই দেখার।