দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস রুখতে আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করল গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। দার্জিলিংয়ে আগত পর্যটকদের জন্য তারা একটি সেল্ফ রিপোর্টিং ফর্ম চালু করেছে অর্থাৎ এই ফর্ম ভরতে হবে পর্যটককেই। সেখানে লিখতে হবে দার্জিলিংয়ে আসার আগে তিনি কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন। কোনও পর্যটককে দেখে যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয় তাহলে তাঁকে হাসপাতালের আইসোলেশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। সেখানে তাঁকে পরীক্ষা করে দেখা হবে। দার্জিলিংয়ের লালকুঠিতে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) এবং জেলা প্রশাসনের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আলাদা ভাবে এদিন জিটিএ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয় হোটেলের সংগঠন, বিভিন্ন এনজিও এবং পর্যটন সংস্থার – এই বৈঠকে আলোচনার পরে সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে দেওয়া হয়। বলা হয়, আজ থেকেই এই সেল্ফ রিপোর্টিং ফর্ম চালু হয়ে গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার অমরনাথ কে জানান যে, হোটেলে প্রবেশের সময়েই পর্যটককে তাঁর পূর্ববর্তী ভ্রমণের কথা বাধ্যতামূলক ভাবে জানাতে হবে। তাঁদের বলতে হবে যে সব এলাকা থেকে করোনাভাইরাস আক্রান্তের খবর আসছে এমন কোনও জায়গায় গিয়েছিলেন কিনা এবং তাঁদের শরীরে রোগের কোনওরকম লক্ষণ রয়েছে কিনা।
সন্দেহজনক কোনও কিছু দেখলেই পুলিশ এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে (সিএমওএইচ) বিষয়টি জানাতে হবে হোটেল থেকে। ওই ব্যক্তিকে নতুন করে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে।
অমরনাথ কে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবে কান দেবেন না এবং এই ধরনের কোনও গুজব দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই সে কথা পুলিশকে জানান। ইতিমধ্যেই ফেসবুকে এই ধরনের পনেরোটি পোস্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।”
জিটিএ ইতিমধ্যে পনেরো হাজার মাস্ক কিনেছে এবং আরও পনেরো হাজার মাস্কের অর্ডার দিয়ে রেখেছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের ট্যাক্সিচালকদের এই মাস্ক দেওয়া হবে। এছাড়াও শিমুলবাড়ি ও মানেভঞ্জনে বাড়তি নজরদারির জন্য স্ক্রিনিং ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক প্রচারের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সহায়তা নিচ্ছে জিটিএ। গান গেয়ে ও নাটক করে তাঁরা এই রোগের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করবেন। এব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে জিটিএ-র তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ। জিটিএ-র পুরো এলাকা জুড়ে সচেতনতামূলক পোস্টার ও ব্যানার লাগানো হবে।
বাগডোগরা বিমানবন্দর ও শিলিগুড়িতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে এখনও পর্যন্ত সাড়ে তিনশো জন বিদেশিকে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের কারও শরীরে করোনাভাইরাসের কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। ২৬ ফেব্রুয়ারি জিটিএ এলাকার পাঁচ জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, এগুলি হল পানিট্যাঙ্কি বাজার, ড্যাঙ্গুজোট, ওকাইটি চা-বাগান, পশুপতি ও সেপি।
জিটিএ-র প্রধান সচিব সুরেন্দ্র গুপ্ত বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে জেলার আধিকারিকরাও মানুষজনকে সতর্ক করছেন। এপর্যন্ত করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতন করার জন্য ভারত-নেপাল সীমান্তে ৩৭টি গ্রামে ২৬৩টি শিবির করেছেন। ৯ মার্চ পর্যন্ত এই শিবিরগুলিতে সব মিলিয়ে ৫,৮৫৫ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কারও শরীরেই এই রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে ছ’টি ইনফ্রারেড থার্মোমিটার কেনা হয়েছে এবং সেগুলি বাগডোগরা, নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল, খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল, মিরিক ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সুখিয়াপোখরি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিজনবাড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে যাতে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে দ্রুত চিহ্নিত করা যায়।”
করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি যে পাঁচজনের নমুনা কলকাতার নাইসেডে পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছিল তাঁদের কারও শরীরে এই ভাইরাস নেই বলে জানানো হয়েছে।