দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুটানে মার্কিন পর্যটকের শরীরের করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়ার পর থেকেই সতর্ক ভুটান লাগোয়া আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। আজ থেকেই ভুটান সীমান্তের জয়গাঁ ও কালিখোলা এলাকায় স্ক্রিনিং ক্যাম্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এই স্ক্রিনিং ক্যাম্প থেকে ভুটানে যাতায়াতকারীদের উপর নজরদারি রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া পুরো আয়ুষ হাসপাতালকেই করোনাভাইরাস আক্রান্তদের জন্য আলাদা কর ব্যবস্থা শুক্রবারই করে দিয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। শনিবারের মধ্যে এই হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে ভর্তি সব রোগীদের অন্যত্র সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে নোডাল হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। সেখানে তিরিশটি শয্যা নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছিল। আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালে দশটি শয্যা নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
আজ বিকেল তিনটেয় আলিপুরদুয়ার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে জরুরি বৈঠক ডেকেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এই বৈঠকে এসএসবি, বিএসএফ, বায়ুসেনা, রেল, হাসপাতাল, চাবাগান ও জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
প্রশাসন সবরকম ভাবে প্রস্তুত থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। আলিপুরদুয়ার জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (২) সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, “জেলা স্বাস্থ্য দফতর গুরুত্ব সহকারে সব সতর্কতামূলক ব্যাবস্থা নিচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। শুধু সতর্ক থাকতে হবে। এক সঙ্গে বেশি মানুষ এক জায়গায় জড়ো না হওয়াই ভালো। দোলের উৎসব এই বছর স্থগিত রাখুন। এখনও পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে কোনও মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়নি। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সব রকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।”
দেশের বাইরে থেকে অন্তত পাঁচ জন সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন। এই পাঁচজনকে বাড়িতেই কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে অর্থাৎ ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আপাতত তাঁরা সকলের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলবেন। তাঁদের কারও শরীরে অবশ্য করোনা ভাইরাস আক্রমণের কোনও উপসর্গ এপর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্বাস্থ্য নিয়মিত ভাবে পরীক্ষা করছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।
ভুটানে ৭৬ বছর বয়সী যে মার্কিন নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন। ২ মার্চ গুয়াহাটি থেকে ভুটানের পারো বিমানবন্দরে তিনি নামার পরেও তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি তবে থিম্পুর ফ্লু ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে সেখানেই তাঁকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।