
শেষ আপডেট: 18 November 2018 09:24
মধুস্মিতার মৃত্যুর পরে সম্মান জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।[/caption]
কলকাতা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে, শনিবারে রাতে ব্রেন ডেথ হয় বছর চোদ্দোর কিশোরী মধুস্মিতা বায়েনের। প্রাথমিক শোক সামলে মধুস্মিতার পরিবারের লোকেরা অঙ্গদানের প্রস্তাবে রাজি হয়। এসএসকেএম-এর চিকিৎসক, লিভার বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ বিকেলেই দুর্গাপুর মিশন হাসপাতাল থেকে মৃতার কর্নিয়া, দু'টি কিডনি এবং লিভার সংগ্রহ করবে এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে যাওয়া বিশেষ প্রতিনিধি দল। তারপর গ্রিন করিডরের মাধ্যমে তা নিয়ে আসা হবে কলকাতায়। মধুস্মিতার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কথা ঘোষণা করে প্রেস রিলিজ়ও প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: সৈকতের 'স্পন্দন' বেঁচে থাকবে রাখালের 'হৃদয়ে'
অভিজিৎবাবু জানিয়েছেন, যেহেতু মধুস্মিতার বয়স খুবই অল্প তাই তার হার্ট প্রতিস্থাপন করার মতো উপযুক্ত কোনও গ্রহীতার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে তার লিভার দেওয়া হবে, ব্যারাকপুরের বাসিন্দা সঞ্জীব দালা-র শরীরে। বছর ৪১-এর সঞ্জীব লিভারের ক্যানসারে আক্রান্ত। এ বার তাঁর শরীরেই প্রতিস্থাপন করা হবে দুর্গাপুরের ওই কিশোরীর লিভার। অভিজিৎবাবু জানান, বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে অঙ্গ সংগ্রহ করবে এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে যাওয়া দল। গ্রিন করিডরের মাধ্যমে কলকাতা পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধে আটটা হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
[caption id="attachment_53259" align="aligncenter" width="1280"]
বার করা হচ্ছে দেহ।[/caption]
এর আগে শুক্রবার বিকেলে পূজালির বাসিন্দা সৈকত লাট্টুর ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। সৈকতের পরিবারের কাছে অঙ্গদান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রাথমিক সংশয় থাকলেও পরে ছেলের অঙ্গদানের প্রস্তাবে রাজি হন বাবা স্বদেশ লাট্টু। সৈকতের শরীরের কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্র, কর্নিয়া সহ মোট ৬ টি অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিজিওনাল অরগ্যান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অরগানাইজেশনের পক্ষ থেকে খবর পাওয়া যায়, মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন বছর ৩৮-এর রাখাল দাসের হৃদযন্ত্রে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। রাণীগঞ্জের বাসিন্দা রাখালের শরীরেই সৈকতের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। সেইমতো শনিবার সকালে গ্রিন করিডরের মাধ্যমে এসএসকেএম থেকে মাত্র ৬ মিনিটে সৈকতের হৃদযন্ত্র নিয়ে আসা হয় মেডিক্যাল কলেজে। ১০.২৪ মিনিটে হৃদযন্ত্র নিয়ে রওনা দেন চিকিৎসকরা। ১০.৩০ মিনিটে এসে পৌঁছান মেডিক্যাল কলেজে। তারপর প্রতিস্থাপন করা হয় হৃদযন্ত্র।