দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনকে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে টানা দু’মাস দেখা করা দূরে থাক, কোনও রকম যোগাযোগ পর্যন্ত রাখেননি প্রেমিক। তাই চতুর্থ দফার লকডাউন ভেঙে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে সটান পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে এসে হাজির হলেন প্রেমিকা।
বহরমপুর থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে সোজা ভাতারের কালুত্তক গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হয়ে যান তরুণী। প্রেমিককে বাড়িতে না পেয়ে তিনি তাঁর দরজার বাইরে ধরনায় বসে পড়েন। সাতসকালে এই ঘটনায় হইচই পড়ে যায় কালুত্তক গ্রামে।
জানা গেছে বহরমপুরের বাসিন্দা ওই তরুণীর কলকাতায় বিয়ে হয়েছিল। তাঁর একটি আট বছরের শিশুকন্যা আছে। বর্তমানে তিনি স্বামীবিছিন্না। দু'বছর আগে ফেসবুকে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় তুহিন শেখের। তারপর দু’জনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রণয়ের সম্পর্ক। তবে সম্পর্ক এখন ভাটার দিকে। লকডাউনকে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে ভালোবাসায় ইতি টানেন তুহিন শেখ। দু’মাস ধরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এখন তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
ওই তরুণীর দাবি, দু'বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে সেই সম্পর্ক অস্বীকার করছেন তুহিন শেখ। তাঁর দাবি, তুহিন তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু এখন কোনও রকম যোগাযোগ রাখছেন না। তুহিনের সঙ্গে প্রেম করতে গিয়েই নাকি তিনি স্বামী-সংসার সব হারিয়েছেন। এখন সেই তুহিনই বেপাত্তা। বর্তমানে তুহিন তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন। তুহিন এখন মোবাইলের সিম বদলে ফেলেছেন। ফলে ওই তরুণী কোনও ভাবেই আর যোগাযোগ করতে পারছেন না তুহিনের সঙ্গে। বাধ্য হয়েই তাই এদিন তিনি তুহিনের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেন। যতক্ষণ না তুহিনের সঙ্গে তার দেখা হচ্ছে ততক্ষণ তিনি সেখানেই বসে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এই বিষয়ে তুহিনের বাড়ির লোক কোনও কথা বলতে চাননি।
পরে খবর পেয়ে ভাতার থানার পুলিশ এসে ওই মহিলাকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে যে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে।