দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওঁরা সবাই পেশাদার যাত্রাশিল্পী। যাত্রা ওঁদের জীবন ও জীবিকা। তাই ঘর ছেড়ে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে অভিনয় করতে এসেছিলেন নদিয়ার কয়েকজন মহিলা যাত্রাশিল্পী। বন্ধ হয়ে গেছে সমস্ত অনুষ্ঠান। তাই অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন এই শিল্পীরা। স্থানীয় মানুষজন এবং প্রশাসন তাঁদের সাহায্য করছে তবুও ঘরের কথা ভেবে আনচান করে উঠছে ওঁদের মন। কবে ফিরবেন ও কী ভাবে ফিরবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।
গ্রাম বাংলার অসংখ্য শখের যাত্রাদলে ওঁরা অভিনয় করেন। তবে ওঁরা শখদার নন বরং পেশাদার। সাজঘরের মাধ্যমে ওঁরা অভিনয়ের বরাত পান। কখনও মহলার সুযোগ থাকে আবার কখনও সেটাও থাকে না। কখনও কখনও আবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহলার ব্যবস্থা করা হয়। মানে একবার দেখে নেন নিজের পাঠ। এটুকুই।
চৈত্র বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ – বছরের এই তিনটি মাস গ্রামাঞ্চলে যাত্রাপালার আসর বসে। সেই যাত্রাপালায় নারী চরিত্রে অভিনয় করার জন্য এই সব যাত্রাশিল্পীরা ঘুরে বেড়ান রাজ্যের এক জেলা থেকে আর এক জেলায়। এবার পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে এসেছিলেন এরকম বেশ কয়েকজন মহিলা যাত্রাশিল্পী। তিন মাসে শো ছিল ৭০ থেকে ৭৫টি কিন্তু কেউ একটি মাত্র শো করেছেন আবার কারও সে সুযোগও হয়নি। লকডাউনের ফলে এখন গৃহবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন এই যাত্রাশিল্পীরাও।
কারও ঘরে অসুস্থ মা, কারও আবার ঘরে সন্তান রয়েছে। কিন্তু এখন ঘরে টাকা পাঠানোর উপায় নেই তাঁদের। টাকা রোজগারই করতে পারছেন না তো পাঠাবেন কী! সেসব কথা বলতে গিয়ে চোখ জলে ভিজে যায় সবিতা চৌধুরী, কবিতা চৌধুরী ও পাপিয়া অধিকারীর মতো যাত্রাশিল্পীদের। এঁরাই এসেছেন নদিয়া থেকে।
পরিবার-পরিজন ছেড়ে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ওঁরা। মাঝে মধ্যেই বসছেন স্ক্রিপ্ট নিয়ে। পাতা ওল্টাচ্ছেন। এখন ভাবছেন কবে লকডাউন উঠবে। তারপরেও কবে যে সব কিছু আবার স্বাভাবিক হবে! কারণ সবকিছু স্বাভাবিক না হলে যাত্রার মতো বিনোদনে ছাড় মিলবে না। অন্যদের কাছে বিনোদন হলেও এটাই তাঁদের রোজগারের একমাত্র পথ।