দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানের ধাক্কায় বাঁধ ভেঙে যে জল ঢুকেছিল, সেই জল এখনও নামেনি দুই চব্বিশ পরগনার উপকূলবর্তী বহু এলাকায়। তার মধ্যেই পূর্ণিমার ভরা কোটালে ডাসা নদীর বাঁধ ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হল হিঙ্গলগঞ্জের বহু এলাকা।
হাসনাবাদ থানার পাটলি খানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষপুকুর এলাকায় নতুন করে প্লাবনের ফলে ঘরছাড়া হল কয়েকশ পরিবার। গত পূর্ণিমায় ভরা কোটালের ফলে বাঁধ ছাপিয়ে জল ঢুকে যায় গ্রামে। ফলে গত দু'সপ্তাহে যতটুকু জল নেমেছিল তা আবার পুরনো আকার নিয়েছে।
একইসঙ্গে আশঙ্কা ছড়াচ্ছে নতুন রোগের। কারণ শৌচালয় জলে ডুবে যাওয়ার ফলে যত্রতত্র শৌচকর্ম সারছেন মানুষ।সেইসঙ্গে জলে ভাসছে পশু, পাখির দেহ। পানীয় জলের সংকটও তীব্র আকার নিয়েছে। কারণ হিঙ্গলগঞ্জের বিস্তীর্ণ অংশে.পানীয় জলের কল ডুবে গিয়েছে। নোনা জলে ডুবে গিয়েছে বিঘের পর বিঘে চাষের জমি। মাছের ভেরিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত।
রবিবার হিঙ্গলগঞ্জের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যান খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বিধানসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ-সহ অন্যান্যরা। বিডিও সৌম্য ঘোষকে সঙ্গে নিয়েই এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী বিধায়করা। বিলি করেন ত্রাণ সামগ্রীও।
পূর্ণিমায় যে প্লাবন হতে পারে সে ব্যাপারে দিন সাতেক আগেই সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশঙ্কা ছিল, উমফানের সময়ে যে বাঁধগুলো পুরোপুরি ভাঙেনি অথচ আলগা হয়ে ছিল সেগুলি পূর্ণিমার ভরা কোটালে ভাঙতে পারে। তাই হয়েছে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অংশে। তবে ত্রাণ শিবিরে মানুষকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে রাখায় বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। তবে গ্রামবাসীদের দুশ্চিন্তা, জল নামলেও নতুন রোগ জাঁকিয়ে বসতে পারে। তার কারণ দূষণ।