দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সময় সম্প্রীতির আরও এক নজির তৈরি হল পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে। এক হিন্দুর মৃতদেহ শ্মশানে দাহ করতে নিয়ে গেলেন দুই মুসলিম যুবক। এর আগেও অবশ্য গলসিতে এ রকম সম্প্রীতির নিদর্শন আছে। আগেও বহুবার দুঃস্থ, গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দুই যুবক শেখ লালন ও আজিজুর রহমানকে দাঁড়াতে দেখা গেছে। অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হিন্দু বা মুসলমান – কোনও ধর্ম বিচার করেন না এই দুই যুবক। তাঁরা পাশে দাঁড়ান নিজেদের সাধ্য মতো।
মঙ্গলবার রাতে এক মৃত ব্যক্তিকে কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে যান শেখ লালন ও আজিজুর রহমান ওরফে মাখন। নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সৎকারের খরচও দিয়ে দেন তাঁরা। এ ছাড়াও দরিদ্র পরিবার হওয়ায় মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধের জন্য খরচ জোগাবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের এই কাজে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আজিজুরের দিদি রিয়া রুবি। করোনার আবহে তাঁদের এই কাজ এলাকায় নতুন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে।
গলসি ১ নম্বর ব্লকের গলিগ্রামের বাসিন্দা শান্ত হাজরা গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হন। অনেক চিকিৎসা করেও তাঁকে সুস্থ করা যায়নি। অনেক দিন ধরে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। তখন থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আজিজুর। তাছাড়া এর আগেও এলাকায় এমন কাজে দেখা গেছে ওই যুবকদের।
এমনিতেই কোভিডের কারণে শ্মশানে দাহ করতে এখন মানুষজন পাওয়া এখন কঠিন। অনেকেই করোনার ভয়ে শবযাত্রায় যেতে রাজি হচ্ছেন না। কিন্তু লালন ও মাখন সে সবের তোয়াক্কা না করে মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে শশ্মানে যান। এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা খুশি। তাঁদের কাজে বাহবা দিয়েছেন এলাকার বিধায়ক অলোক মাঝি।
করোনার আবহে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার সিজবেড়িয়ায় এই ধরনের নজির দেখা গিয়েছিল মে মাসের গোড়ায়। ব্রেন টিউমারে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। লকডাউন চলায় কোনও আত্মীয়ই আসতে পারেননি। তখন বৃদ্ধের ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রামের বাসিন্দারা। মৃত ব্যক্তি হিন্দু হলেও তাঁর প্রতিবেশীরা প্রায় সকলেই মুসলমান। সিজবেড়িয়া গ্রামটির বেশিরভাগ বাসিন্দাই মুসলমান। গ্রামে বেশ কয়েক ঘর হিন্দু আছেন ঠিকই কিন্তু করোনার আশঙ্কায় তাঁরা শ্মশানে যেতে রাজি হননি। তাই সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলেন মৃতের পরিবারের লোকজন। তখন প্রয়োজনীয় জিনিস জোগাড় করে মৃতদেহ কাঁধে করে তাঁরা নিয়ে যান উলুবেড়িয়ার শতমুখী শ্মশানে। সেখানেই হিন্দু রীতি মেনে ওই বৃদ্ধের শেষকৃত্য করা হয়েছিল।