
শেষ আপডেট: 7 April 2019 10:51
শুক্রবার রাতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে অনুজ শর্মাকে সরিয়ে সেই স্থানে রাজেশ কুমারকে বসায় নির্বাচন কমিশন। জ্ঞানবন্ত সিং-এর পরিবর্তে বিধাননগর কমিশনারেটের নতুন পুলিশ কমিশনার করা হয় নটরাজন রমেশ বাবুকে। এ ছাড়া ডায়মন্ডহারবার ও বীরভূমের পুলিশ সুপার বদল করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। রাত কাটতেই শনিবার কমিশনকে কড়া চিঠি লিখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, কমিশন পক্ষপাত করছে। ‘রাজনৈতিক প্রভু’ তথা বিজেপি-র কথায় বদলি করা হয়েছে দক্ষ পুলিশ অফিসারদের। এবং যাঁদের কমিশনার করা হয়েছে, তাঁদের সেই যোগ্যতা যে নেই সেই দাবিও করেন তিনি।
চিঠিতে মমতা লেখেন, “কমিশনের এই সিদ্ধান্ত খামখেয়ালি শুধু না, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট। বিজেপি-র পক্ষ নিয়ে যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ক'দিন আগে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি নেতারা বলেছিলেন রাজ্যের সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের খুব শিগগির বদলি করে দেবে নির্বাচন কমিশন। তার পর শুক্রবার একটি টিভি শো-তে প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপি প্রার্থী বলেছেন, বাংলায় আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ভাল নয়, সে জন্যই সেখানে সাত দফায় ভোটের আদেশ দেওয়া হয়েছে।” তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ তার পর পরই, বাংলার চার পুলিশ অফিসারকে বদলির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তাঁর কথায়, এই সব ঘটনা পরম্পরা থেকে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে ঘোর সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তারা কি সাংবিধানিক নিয়ম মেনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করাতে চাইছে, নাকি বিজেপি-কে খুশি করে চলতে চাইছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এও অভিযোগ, অফিসারদের বদলির আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করেনি কমিশন। সার্বিক ভাবে এই ক্ষোভ জানিয়ে মমতা দাবি করেন, কমিশন যেন তাঁদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখে। শনিবার মমতার লেখা সেই চিঠির জবাব রবিবারই দিয়ে দিল কমিশন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই জবাবে মাধ্যমে কমিশন আরও স্পষ্ট করে দিল, প্রশাসন রাজ্য সরকারের হাতে থাকলেও নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর সব ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতেই। সুষ্ঠু নির্বাচন করানোর জন্য যা তাদের ঠিক মনে হবে, সেটাই করা হবে। তাই কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদতে নিজেরই সম্মানহানি করলেন মমতা।