দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৪৯ বছর বয়সে আচমকাই মৃত্যু হয়েছে বোনের। কিন্তু তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেয়ে বেঁচে থাকুক অনেকগুলো প্রাণ। তেমনটাই চান জোকার বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিকের দাদা শ্যামল মণ্ডল। বলছেন, "অন্যের শরীরে হলেও ও বেঁচে তো থাকবে। এটাই কী কম পাওনা!"
আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জোকার কাছে রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিক। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, রবিবার হঠাৎই রক্তবমি শুরু হয় অঞ্জনাদেবীর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। প্রয়োজন হয় অত্যাধুনিক চিকিৎসার।
এরপরেই অঞ্জনাদেবীকে হাওড়ার আন্দুলের নারায়ণা হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর দাদা শ্যামল মণ্ডল। ভেন্টিলেশনে রাখা হয় অঞ্জনাদেবীকে। সোমবার সকালে চিকিৎসকরা জানান, অ্যাকিউট ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে তাঁর। ফলে মস্তিষ্কের ৯৯ শতাংশেরও বেশি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ব্রেন ডেথ না হওয়ায় সচল রয়েছে শরীরের বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। এর খানিক পরেই মৃত্যু হয় অঞ্জনাদেবীর। নারায়ণা হাসপাতালের পক্ষ থেকেই তাঁর অঙ্গদানের কথা বলা হয় পরিবারকে। রাজিও হন তাঁরা। অঞ্জনাদেবীর দাদা শ্যামলবাবু বলেন, "বোন অকালে চলে গিয়েছে, ওর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেয়ে যদি কেউ সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকেন তাহলে তো ভালোই। বুঝব আমার বোন এ ভাবেই অনেকের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকবে।"
ইতিমধ্যেই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, হার্ট, কিডনি, লিভার, চোখ এবং ত্বক-----সবই যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে। সম্ভবত সব অঙ্গই দান করা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও ফুসফুসও যাতে দান করা যায় সে ব্যাপারে চেষ্টা চালাচ্ছেন নারায়ণা কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পক্ষ থেকে দিল্লির বিভিন্ন নামিদামি হাসপাতাল এবং কলকাতার কিছু হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।