দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারদা কাণ্ডে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়কে ফের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
ইডি সূত্রে বলা হচ্ছে, ২০১১ সালের পর থেকে সারদা থেকে শতাব্দী কেন, কোন খাতে মোটা টাকা নিয়েছিলেন সে ব্যাপারেই মূলত তাঁর কাছ থেকে তথ্য চান তদন্তকারীরা। শুধু তা নয়, সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে কার মাধ্যমে তাঁর প্রথম যোগাযোগ হয়েছিল, চুক্তির শর্ত কী ছিল, এ ব্যাপারে কোনও লিখিত চুক্তি ছিল কিনা সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হতে পারে শতাব্দীর থেকে।
এর আগেও সারদা কাণ্ডে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদকে জেরা করেছিল সিবিআই ও ইডি। প্রসঙ্গত, সারদা তথা চিটফান্ড তদন্তে নেমে সাধারণ মানুষের টাকা লুঠের ঘটনার নেপথ্য ষড়যন্ত্র অনুসন্ধান করে দেখছে সিবিআই। আর সেই টাকা কী ভাবে বেহাত হয়েছে তা তদন্ত করে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
তদন্ত এজেন্সি সূত্রে খবর, এর আগে সারদার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ অস্বীকার করেছিলেন শতাব্দী। তিনি জানিয়েছিলেন, সারদার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যডর তিনি ছিলেন না। সারদা-র হয়ে কোনও বিজ্ঞাপনেও তিনি অভিনয় করেননি। কিন্তু সূত্রের খবর, সম্প্রতি ইডি তাঁকে ফের নোটিশ পাঠালে, শতাব্দী চিঠি দিয়ে তদন্ত এজেন্সিকে জানান তিনি সারদার ২৯ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে রাজি।
https://www.youtube.com/watch?v=PucuLZQD-no&feature=youtu.be
এর পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সারদা-র থেকে কোন খাতে ওই টাকা নিয়েছিলেন শতাব্দী। তাঁকে পারিশ্রমিক দেওয়ার কোনও কারণ তো থাকবে? তা ছাড়া এতোদিন পর কেন টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলছেন তিনি! আগে কেন তাঁর বিবেক জাগ্রত হয়নি। তদন্ত এজেন্সি-র সূত্রে বলা হচ্ছে, তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তাপস পাল সারদার হয়ে অনেক জায়গায় চিঠি লিখেছিলেন। শতাব্দীও সে রকম কিছু করেছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
তৃণমূল অবশ্য দলের সাংসদদের এ ভাবে জেরার জন্য ডাকা-কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই মন্তব্য করেছে। নতুন করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তাঁকে চিঠি দেওয়ার পর শতাব্দী বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন। তার পর তৃণমূলের একুশ জুলাই মঞ্চ থেকেই মমতা বলেছিলেন, শতাব্দী বলছে ওঁকে নোটিশ পাঠিয়েছে। কিন্তু এ ভাবে তদন্ত এজেন্সি লেলিয়ে দিয়ে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। রাজনৈতিক ভাবে এর মোকাবিলা করবে তৃণমূল।
শুধু শতাব্দী নয়, ডেরেক ও ব্রায়েন সহ তৃণমূলের আরও কিছু নেতা-সাংসদকে জেরার জন্য এরই মধ্যে নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। সংসদের অধিবেশন চলছে বলে তাঁরা কেউই তখন হাজিরা দিতে যাননি। বলেছিলেন, অধিবেশন শেষ হলে যাবেন। বুধবার সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবারই হাজিরা দেন শতাব্দী। এখন দেখার ডেরেক-রা কবে হাজিরা দিতে যান।