দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: এত দিনে ওষুধ বা প্রতিষেধক বের হয়নি। বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা। এই অবস্থায় করোনা মহামারী থেকে মুক্তি পেতে যাগযজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের সুতাহাটার হোড়খালীর গোলাপচক গ্রামের বাসিন্দারা। রাখিপূর্ণিমার দিন তা শেষ হল।
গ্রামের বাসিন্দাদের কথায়, যুগ যুগ ধরে ভগবানের পুজো করে ও তাঁকে তুষ্ট করেই বিভিন্ন অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা তাঁরা শুনেছেন। পৌরাণিক কাহিনিতে সে সব কথা রয়েছে। তা হলে এই কলিযুগেও তা না হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাই ঘোর বিপদের দিনে তাঁরা আয়োজন করেছেন যাগযজ্ঞের। বিজ্ঞান এখনও কোনও সমাধান করতে পারেনি করোনা মহামারীর। তাই বিপদের দিনে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হয়েছেন গ্রামের মানুষজন। তাঁরা ১৫ দিন অর্থাৎ এক পক্ষ ধরে এই যাগযজ্ঞ করেছেন।
করোনার আশঙ্কায় এখন তটস্থ সচেতন লোকজন। লকডাউনে অনেকের কাজ গেছে। ভিন রাজ্য থেকে ফিরে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। কবে এই মহামারী থেকে মুক্তি মিলবে সে কথা কেউই জানেন না। তাই হোড়খালীর বাসিন্দারা যাগযজ্ঞ তো বটেই সঙ্গে নাম সংকীর্তনেরও ব্যবস্থা করেছেন। রাখি পূর্ণিমায় যখন তা শেষ হল ততক্ষণে কয়েক মণ কাঠ পুড়েছে। সঙ্গে পুড়েছে বিস্তর ঘি। রাখিপূর্ণিমায় দিনভর চলেছে হরিনাম সংকীর্তন।
যাঁরা এসব আয়োজন করেছেন তাঁদের বিশ্বাস এর ফলে করোনায় মৃতদের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে। মানুষ আবার আগের মতো জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।
হোড়খালীর পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যা সুনীতা পাত্র বলেন, “আমরা প্রত্যেকেই কমবেশি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। অনেকেই নিয়ম করে পুজোপাঠ করি। এখানেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা এখানে পুজোপাঠের আয়োজন করেছি। পুলিশকর্মী থেকে স্বাস্থ্যকর্মী -- অনেকেই এখানে এসেছেন প্রার্থনা করতে। আমরা দেখেছি ভগবানকে তুষ্ট করে অসাধ্যসাধন করা হয়েছে। আমরা হিন্দু ধর্ম অবলম্বনকারী। কেন পুজোপাঠ করব না? যখন সবকিছু আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে তখন পুজোপাঠ করাটাই শ্রেয়। ত্রেতা যুগ ও দ্বাপর যুগের কথা আমরা পড়েছি। সেসব আমরা মেনে চলি। মহামারী দূর করার জন্য এই আয়োজন করেছি।”
এই যজ্ঞের অন্যতম কর্মকর্তা মানসকুমার পাত্র বলেন, “রাজ্যজুড়ে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যাতে ঈশ্বর সকলকে ভাল রাখেন সেই কামনা করার জন্যই আমরা এই যজ্ঞের আয়োজন করেছি।”
বিজ্ঞানমনস্ক লোকজন অবশ্য এসব একেবারে মানছেন না। তাঁরা বলছেন, এসব করে কিছু হয় না। যদি যাগযজ্ঞ করে করোনা আটকানো যেত তাহলে এই ১৫ দিনে অন্তত পূর্ব মেদিনীপুরের লোকজন করোনায় আক্রান্ত হতেন না।