দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গ্রামের রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দু’টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে মারপিটের ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ১১ জনের বাড়ি খণ্ডঘোষ থানার উদয়কৃষ্ণপুরে। অন্য এক জনের বাড়ি রায়না থানার মূলকাঠি গ্রামে।
মঙ্গলবার রাতে দু’টি গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিস তাদের গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। মূলকাঠি গ্রামের বাসিন্দা শেখ হারুনের জামিন মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম রঞ্জনী কাশ্যপ। বাকিদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে বৃহস্পতিবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন বিচারক।
পুলিস জানিয়েছে, খণ্ডঘোষ থানা এলাকার এক বাসিন্দার করোনা সংক্রামিত হওয়ার খবর চাউর হতেই সেখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়েন। করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য বহিরাগতদের এলাকায় প্রবেশ রুখতে রায়না ও খণ্ডঘোষের বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। মূলকাঠি গ্রামের রাস্তায় ব্যারিকেড করে দেন বাসিন্দারা। আশপাশের গ্রামে যাতায়াতের রাস্তায় ব্যারিকেড করা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
উদয়কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা সফিয়েল হক মঙ্গলবার বিকালে মূলকাঠি গ্রামের রাস্তা ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় মূলকাঠি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। তাঁকে দেখে নেওয়ারও হুমকিও দেওয়া হয়। তাঁকে মারধর করা নিয়ে উদয়কৃষ্ণপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। মঙ্গলবার বিকালে উদয়কৃষ্ণপুরের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা লাঠি, টাঙি, রড প্রভৃতি নিয়ে মূলকাঠি গ্রামে হামলা চালায়। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। কয়েক জনকে মারধর করা হয়। এমনকি মহিলাদের শ্লীলতাহানি পর্যন্ত করা হয় বলে অভিযোগ। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার বিষয়ে সফিয়েল ও গোলেহারা শেখ পৃথক দু’টি অভিযোগ দায়ের করেন। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বুধবারও দু’টি গ্রামে পুলিশ টহল দেয়। ধরপাকড়ের ভয়ে উদয়কৃষ্ণপুরের বহু বাসিন্দা গ্রাম ছেড়ে পালায়। রায়না থানার এক আধিকারিক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশি টহল চলছে।