দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা ভাইরাসের জেরে বহু ধর্মস্থানে ভক্তদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। তাই সমস্যায় পড়েছেন মন্দিরের উপরে নির্ভর করে থাকা দোকানিরা। অনেকে মন্দিরের আশপাশে ভিক্ষা করেন। তাঁদেরও অন্ন জুটছে না। কোনও একটা বিশেষ মন্দির নয়, সামগ্রিক ভাবে পূর্ব বর্ধমানের মন্দিরগুলির বাইরের ছবি এটাই। সমস্যায় পড়েছেন ফেরিওয়ালা থেকে ফুটপাথের দোকানি – সকলেই।
মন্দিরের বাইরে বসে থাকা এক ভিক্ষুক বললেন “যদি জোটে একটি টাকা খাদ্য কিনো খাবার লাগি।” মানে একটা টাকা পেলে খাবার কিনে খাবেন। এক টাকায় আজকাল খাবার পাওয়া যায় না। কিন্তু সেই একটা টাকাও জুটছে না অনেকের। দীর্ঘ লকডাউন এবং তার পরেও কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঘরবন্দী বহু মানুষ। অনেকের কাজ গেছে। এই অবস্থায় যাঁরা ভিক্ষাজীবী তাঁদের অবস্থাও দুর্বিসহ।
মার্চ থেকে সেই যে লকডাউন শুরু হয়েছে তার পর থেকে এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। বন্ধ ছিল দোকানপাট। কেনাকাটাও বন্ধ ছিল। আনলক ওয়ানে দোকানপাট খুললেও বাজার জমেনি। মানুষের হাতে পয়সা নেই। বাজারে মন্দা। এই দীর্ঘ লক-ডাউনের ফলে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। অনেকের বেতন কমে গেছে। সঞ্চয় ভাঙাত হচ্ছে। কিন্তু তা দিয়ে আর কদিন চলে!
ফুটপাত বা রাস্তার ধারে যাঁরা ব্যবসা তাঁরা এখন খদ্দেরের জন্য হা- পিত্যেশ করে বসে থাকেন। এক জন দু'জন খরিদ্দার এলে বউনি হয়। মহাজনের পাওনা বাকি থাকে। এই সব দোকানগুলোতে আবার সকালে নামগান শোনাতে আসেন কেউ কেউ। ঈশ্বরের নাম গেয়ে সকলের মঙ্গলকামনা করেন। কিন্তু ভগবানের মন্দিরেও আজ তালা। তাই তাঁদেরও ফিরতে হয় শূন্য ঝুলি নিয়ে।
মন্দিরগুলোতে প্রতিদিন আসতেন অসংখ্য ভিক্ষুক। তাঁদেরও অন্ন জোটানো দায় হয়ে পড়েছে এখন। অভ্যাসের বশে আর সংসার চালাতে যাঁরা দোকানে দোকানে ঘুরে নামগান গান তাঁদেরও ভিক্ষা জুটছে না। অনেক দোকানি অবশ্য তাঁদের দু-এক টাকা দেন।
লকডাউনের সময় অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একবেলা খাবার জোগান দিয়ে গেছেন শহরের নানা প্রান্তে। আনলক পর্বে সেই খাবারের সংস্থান নেই। এবারে পুজোর বাজারেও ভাঁটার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভিক্ষুকদের কাছ থেকে জানা গেল আগে যেখানে দিনে শ’দুয়েক টাকা আয় হয়েই যেত এখন সেখানে ৪০ থেকে ৫০ টাকা আয় করাও দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।