দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: সিপাহি বিদ্রোহ, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এমনকি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও বন্ধ হয়নি দুর্গাপুজো। প্রতি বছর ঘটা করে পালিত হত পুজো। পরিবারের সবাই আসতেন বাড়িতে। এই আনন্দে অংশ নিতেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেক দূর থেকেও এই ঐতিহ্যবাহী পুজো দেখতে আসতেন মানুষজন। কিন্তু এবার করোনা আবহে বন্ধ করতে হয়েছে গোবরডাঙার জমিদার বাড়ির ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো দুর্গাপুজো।
প্রতি বছর জমিদার বাড়ির ঠাকুর দালানে হত এই দুর্গাপুজো। তার অনেক আগে থেকেই জমিদার বাড়ির চারপাশের আগাছা পরিষ্কার করা হত। আলো লাগানো হত। কিন্তু এবার তার কিছুই নেই। আর কয়েক দিন পরেই পুজো। অথচ কেমন যেন চুপ করে রয়েছে জমিদার বাড়ি ও তার আশেপাশের এলাকা।
৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা পুজোয় এবার ভাটা পড়ল করোনার কারণে। মহালয়ার পরেই কাঠামো পুজোর মাধ্যমে এই পুজোর সূচনা হয়ে যেত। ঠাকুর দালানেই তৈরি হত প্রতিমা। কিন্তু এবার তার কিছুই হয়নি। সব রেওয়াজ বদলে দিয়েছে এক অতিমারী।
জমিদার বাড়ির বর্তমান সদস্যদের বেশির ভাগই থাকেন বিদেশে। পুজোর কটা দিন অবশ্য তাঁরা দেশে ফেরেন। তাই বেশ কিছুদিন আগে থেকেই সাজো সাজো রব পড়ে যায়। কিন্তু এবছর করোনার কারণে পুজো বন্ধ। আর তাই কেউ আসবেন না বাড়িতে। এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে আসার ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা রয়েছে অবশ্য। আর তাই মন খারাপ জমিদার বাড়িতে থাকা সদস্যদের।
গোবরডাঙার জমিদার বংশের অষ্টম বংশধর নয়ন প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন এবার বাড়িতে কোনও পুজো হচ্ছে না। কিন্তু জমিদার বাড়ি লাগোয়া যে প্রসন্নময়ী কালী মন্দির রয়েছে সেখানে ঘট স্থাপন করে পুজোর সব নিয়ম মেনে পুজো হবে। তবে জমিদার বাড়িতে যেভাবে কাঠামো পুজো ও উৎসব হত তা এবার বন্ধ থাকবে। ঐতিহ্যশালী এই পুজো বন্ধ হওয়ায় মন খারাপ গোবরডাঙার সাধারণ মানুষেরও। তাঁদের বক্তব্য, জমিদার বাড়ির পুজো সেখানকার অন্যতম আকর্ষণ। তাই সেই পুজো এবার না হওয়ায় তা পুজোর রং অনেকটাই ফিকে করে দেবে।