
শেষ আপডেট: 9 July 2020 15:14
রাজ্য বনদফতরের জলজ প্রাণীর হিসাব অনুযায়ী মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা থেকে নবদ্বীপ পর্যন্ত ১৪৩ কিলোমিটার অংশের গঙ্গা শুশুকের মূল বিচরণ ক্ষেত্র। এর মধ্যে আবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের কল্যাণপুর থেকে পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের পাটুলি পর্যন্ত এলাকায় গাঙ্গেয় ডলফিন সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় দেখা যায়। ২০১৭-১৮ সালে গঙ্গার এই এলাকায় সাতানব্বইটি ডলফিন ছিল। দূষণ বাড়ার ফলে এদের সংখ্যা কমে হয়েছিল সত্তর থেকে পঁচাত্তর। সংরক্ষণ না করলে অচিরেই লুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে গাঙ্গেয় ডলফিনের।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনের তথ্য থেকে জানা গেছে ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে গাঙ্গেয় ডলফিনের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে গাঙ্গেয় ডলফিনের সংখ্যা ১১৭। কাটোয়ার শাঁখাই এলাকায় তারা ১১টি বাচ্চা প্রসব করেছে। ওই বেসরকারি জলজ প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার সম্পাদক গণেশ চৌধুরী জানান, কল্যাণপুর থেকে নবদ্বীপ পর্যন্ত গঙ্গায় ৩২টি গাঙ্গেয় ডলফিনের সন্ধান পাওয়া গেছে। ভারতের অন্যান্য জায়গার তুলনায় কাটোয়ায় সবচেয়ে বেশি ডলফিনের বৃদ্ধি ঘটেছে। এদের বাঁচাতেই বুধবার কাটোয়ায় শুশুক সংরক্ষণ ও প্রজনন কেন্দ্রের সূচনা করা হয়েছে। শুশুক বাঁচানোর জন্য প্রচারও করা হবে এই এলাকায়।
[caption id="attachment_238353" align="aligncenter" width="1280"]
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যরা।[/caption]
গঙ্গার শাঁখাই ঘাটে গাঙ্গেয় ডলফিন বাঁচাতে বোর্ড লাগানো হয়েছে। গাঙ্গেয় ডলফিন বাঁচাতে চলবে কড়া নজরদারি। শুশুকের সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণে সর্বক্ষণের জন্য দুটি স্পিডবোট রাখা হয়েছে।
বুধবার কাটোয়ায় শুশুক সংরক্ষণ কেন্দ্রের সূচনা করেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বন দফতরের পক্ষ থেকে এখানে সর্বক্ষণের কর্মী নিয়োগ করা হবে। তিনি খাজুরডিহি মৌজায় বন দফতরের অফিসের শিল্যান্যাস করেন।