দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রমেই আরও শক্তি বাড়িয়ে চলেছে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফান। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা পরিণত হবে সুপার সাইক্লোনে। তারপর ধেয়ে আসবে রাজ্যের দিকে। এর প্রভাবে শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, গোটা রাজ্যেই ঝড়-বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে।
সোমবার আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে আমফান। আগামী ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যে এটি পরিণত হবে সুপার সাইক্লোনে। সেই সময়ে আমফানের অক্ষ বা 'চোখের' গতিবেগ ২৩০ কিলোমিটারে পৌঁছতে পারে। মধ্য বঙ্গোপসাগরে আসতে আসতে আমফানের অক্ষের গতিবেগ আরও বেড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ৯৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম, ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ১০৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ- দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে আমফান।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দেখানো হয়েছে যে ১৯ তারিখের পর থেকে ক্রমশই স্থলভূমির সঙ্গে দূরত্ব কমবে আমফানের। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যে ল্যান্ডফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আমফানের। আবহবিদেরা আশঙ্কা করছেন, ল্যান্ডফলের আগে যদি এরকমই শক্তি থাকে আমফানের, তবে এই সুপার সাইক্লোন আছড়ে পড়ার সময়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৮৫ থেকে ২০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি থাকতে পারে।

সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই সুপার সাইক্লোনের প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি তো বটেই, মালদা ও দুই দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে বলেও জানানো হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে এই ঝড়ের গতিবেগ আরও বাড়তে পারে।

আলিপুরের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ২০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ভোররাতে ঝড়ের গতিবেগ হবে ১০০ কিলোমিটার। তারপর থেকে যত বেলা বাড়বে, ঝড়ের গতিবেগ তত বাড়বে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও দুই মেদিনীপুরে ঝড়ের গতিবেগ ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার হতে পারে। কোথাও কোথাও ১৫৫ কিলোমিটার বেগেও ঝড় বইতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়ের গতিবেগ বুধবার দুপুরের পর থেকে ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার এমনকি ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার এই জেলাগুলির সঙ্গে নদিয়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আমফানের প্রভাবে সিকিমে পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমফানের প্রভাবে সমুদ্রে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১২ থেকে ১৬ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরে ৮ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই উপকূল এলাকার বাসিন্দাদের সমুদ্রের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। নিচু জায়গা থেকে বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় নিয়ে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘর থেকে বেরোতে বারণ করা হয়েছে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া। লঞ্চ পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ। কাঁচা বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। বিদ্যুতের খুঁটি, ল্যাম্পপোস্ট উপড়ে যেতে পারে। বড় নারকেল গাছ বা তাল গাছের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রেললাইনে গাছ পড়তে পারে, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।