দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শাশুড়ির গায়ে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে। এই ঘটনায় আহত তিলোত্তমা সিংহরায়কে ভর্তি করা হয়েছে খণ্ডঘোষ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। অভিযুক্ত পুত্রবধূ রাণু হাজরাকে আটক করেছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।
এলাকা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বাড়িতেই ছিলেন রাণু হাজরার স্বামী অচিন্ত্য সিংহরায়। শুক্রবার সকালে কোনও কারণে ওই দম্পতির মধ্যে ঝামেলা হয়। তখন অচিন্ত্যবাবুর মা তিলোত্তমা সিংহরায় তাতে বাধা দেন। অভিযোগ, তখন রাগের মাথায় রাণু হাজরা পাশের ঘর থেকে একটি অ্যাসিডের বোতল নিয়ে আসেন। তার ছিপি খুলে শাশুড়ির দিকে অ্যাসিড ছুড়তে থাকেন। তা দেখে অচিন্ত্যবাবুই পুলিশে খবর দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামীণ পুলিশ ও গ্রামবাসীরা রাণু হাজরাকে আটকে রাখে। তারপরে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আহত মহিলার ছেলে অচিন্ত্য সিংহরায় জানিয়েছেন, বছর খানেক আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরে তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিল। রাণুর বাপের বাড়ি বাঁকুড়া জেলার বোয়াইচণ্ডীতে। তিনি পাত্রসায়রে ত্রাণকর্মী হিসেবে কর্মরতা। তিলোত্তমা সিংহরায় এ বছর ৩১ মার্চ চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। খণ্ডঘোষের খুদকুড়িতে তিনি চাকরি করতেন। তাঁরা এখনও সরকারি আবাসনেই থাকেন। অচিন্ত্যবাবুর বাবা শয্যাশায়ী।
এলাকা সূত্রে জানা গেছে, তেরো থেকে চোদ্দো মাস আগে অচিন্ত্য ও রাণুর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে বনিবনা হয় না। একবার বাপের বাড়িতে গেলে রাণু আড়াই থেকে তিন মাসের আগে ফিরতেন না। তা নিয়ে এলাকার লোকজন প্রশ্ন তুলেছেন।
তিলোত্তমা সিংহরায় বলেন, “ওদের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। আমি গিয়ে দু’জনকেই থামতে বলি। তারপরে বারান্দায় এসে বসি। তখনই বৌমা এসে একটা বোতলের ছিপি খুলে আমাকে লক্ষ করে অ্যাসিড ছুড়ে দেয়। গায়ে কিছু পড়ার পরে জ্বালা করছে বলে বুঝতে পারি। তখনই আমার ছেলে এসে বলে যে আমার গায়ে অ্যাসিড ছুড়ে দিয়েছে।” পুলিশে জানানোর পরে কয়েক জন প্রতিবেশীর সাহায্যে তাঁর মাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান অচিন্ত্যবাবু। তিলোত্তমাদেবীর ঘাড়, হাত, পা প্রভৃতি অংশ পুড়ে গেছে। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ এদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে অভিযুক্তকে। এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। প্রয়োজনে রাণুকে গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ।