দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: করোনা নিয়ে অসচেতনতার চূড়ান্ত নজির দেখালেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। নিজে করোনা আক্রান্ত জেনেও তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাজারহাটে । তিনদিন বাড়ির বাইরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকলেও কোভিড হাসপাতালে যেতে নারাজ ওই স্বাস্থ্যকর্মী । অবশেষে স্থানীয় কাউন্সিলার ও পুলিশ এসে কার্যত জোর করে করোনা আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে ।
মালদহের করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। প্রায় প্রতিদিনই হুহু করে বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা । করোনার ভয়াবহতা এতটাই যে জেলা প্রশাসনকে একের পর এক কোভিড হাসপাতাল চালু করতে বাধ্য হচ্ছেন । রাস্তায় নেমে মানুষকে সচেতন করতেও দেখা যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। সাধারণ মানুষ কিছুটা সচেতন হলেও অন্য ছবি ধরা পড়ল মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যসেন পল্লিতে। এই এলাকার এক বাসিন্দা পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিন দিন আগে । সেই খবর চাউর হতেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় গোটা এলাকা জুড়ে । কারণ ওই স্বাস্থ্যকর্মী সরকারি নির্দেশ মতো কোভিড হাসপাতালে না গিয়ে নিজের বাড়িতেই ছিলেন গত তিন দিন ধরে । স্বাস্থ্য দফতর থেকে অ্যাম্বুল্যান্স এলেও কোনও মতেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে যেতে রাজি হননি তিনি । অবশেষে মঙ্গলবার স্থানীয় কাউন্সিলার নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি ও ইংরেজবাজার থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছে আক্রান্তকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায় ।
স্থানীয় বাসিন্দা চম্পা বোস ,পুষ্প চৌধুরীরা জানান তিন দিন আগে ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা । কিন্তু কোনও নিয়ম না মেনে এলাকায় যথেচ্ছভাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি । বারবার স্বাস্থ্য দফতরের অ্যাম্বুল্যান্স এসে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি হাসপাতালে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না তিনি। তাঁরা বলেন,"এই ভাবে কারো পরোয়া না করে করোনা আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্যকর্মী এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাতে আমরা আতঙ্কিত।" একজন স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে তাঁর এমন আচরণে রীতিমত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় কাউন্সিলার নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি বলেন, "এখনো সচেতন নন বহু মানুষ। এই করোনা আক্রান্তকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে নাজেহাল হতে হল স্বাস্থ্য দফতরকে। পজেটিভ জানার পরও আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী ঘুরে বেড়ালেন, বাজার করলেন।"
এ দিন সকাল থেকেও স্বাস্থ্য দপ্তরের অ্যাম্বুল্যান্স বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও হাসপাতালে যেতে নারাজ ছিলেন ওই আক্রান্ত ব্যক্তি । অবশেষে কাউন্সিলর ও পুলিশের হস্তক্ষেপে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে ।