করোনার দাপট বাড়ছে, দার্জিলিঙে নতুন কোভিড হাসপাতাল উদ্বোধনে স্বস্তি পাহাড়বাসীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং: করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বাড়ছে উদ্বেগ। পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন কোভিড হাসপাতালের উদ্বোধন হল দার্জিলিঙে। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ১০০ শয্যার এই কোভিড হাসপাতাল গড়ে তাক লাগিয়ে দিল গোর্খাল্
শেষ আপডেট: 22 June 2020 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং: করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বাড়ছে উদ্বেগ। পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন কোভিড হাসপাতালের উদ্বোধন হল দার্জিলিঙে। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ১০০ শয্যার এই কোভিড হাসপাতাল গড়ে তাক লাগিয়ে দিল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)।
তিস্তা ত্রিবেণীতে জিটিএর অসম্পূর্ণ একটি বাংলোকে হাসপাতালের রূপ দেওয়া হয়েছে। আজ জিটিএর প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনিত থাপা এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। খুব দ্রুত এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অনিত থাপা বলেন, ‘‘সবরকম পরিকাঠামো তৈরি করেই হাসপাতালের উদ্বোধন করা হল। পাহাড়ের মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁদের সুচিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থাই থাকছে এখানে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। শক্ত হাতে এর মোকাবিলা করতে হবে।’’
দার্জিলিং জেলার সিংহভাগ অংশই হল পাহাড়। জেলার তিনটি মহকুমা দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও মিরিক পার্বত্য এলাকার মধ্যে পড়ে। বাকি একটিমাত্র মহকুমা সমতলে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত দার্জিলিং জেলার অংশ থাকা কালিম্পং নতুন জেলা হলেও প্রশাসনিক ভাবে এখনও জিটিএর অধীন।

করোনা হলে এতদিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করতে হত পাহাড়ের রোগীদের। পাহাড় থেকে আক্রান্তদের নামিয়ে আনতে হোত সমতলে। এতে করে একদিকে যেমন আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হত তেমনই পরিবারের সদস্যদেরও নানা সমস্যার সন্মুখীন হতে হচ্ছিল। সমস্যা দূর করতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয় পাহাড়েই পৃথক কোভিড হাসপাতাল তৈরি করা হবে। পরিকল্পনা মতো জিটিএ ত্রিবেণীতে একটি অসম্পূর্ণ ভবন হাসপাতালের জন্য চিহ্নিত করে। ডিজিএইচসির চেয়ারম্যান থাকাকালীন ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন জিএনএলএফ সুপ্রিমো সুবাস ঘিসিং।
সরকারের অনুমোদন পেয়েই ভবনটিকে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করে জিটিএ। এখন বাংলোটিকে আধুনিক হাসপাতালে বদলে ফেলা হয়েছে। ভবনটিতে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস বা সারি চিকিৎসারও পরিকাঠামো রয়েছে। এছাড়া কোভিড আক্রান্তের চিকিৎসাও চলবে এখানে। এতে পাহাড়ের মানুষকে করোনা চিকিৎসার জন্য আর সমতলে নামতে হবে না।
গত কয়েক দিন ধরেই অন্যান্য জেলার মতোই কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দার্জিলিঙেও। রবিবারেও জেলার বাসিন্দা ২৮ জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। কালিম্পঙের বাসিন্দা দুজনের শরীরেও মিলেছে কোভিড-১৯ ভাইরাস। সব মিলিয়ে রীতিমতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। এই অবস্থায় পাহাড়ে নতুন কোভিড হাসপাতালের উদ্বোধন হওয়ায় কিছুটা নিশ্চিন্ত হলেন বাসিন্দারা।