
শেষ আপডেট: 30 April 2019 12:51
নাম না করলেও সূর্যবাবুর তির যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তা বুঝতে কারও অসুবিধে হয়নি। কিন্তু এই টুইট নিয়েই সমালোচনার ফণী ছুটছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তৃণমূল তো ছেড়েই দিন, বাম কর্মী-সমর্থকরাই তোপ দেগেছেন সূর্যবাবুর বিরুদ্ধে। অনেকের মতে, সূর্যবাবু রাজনৈতিক শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। রাজনৈতিক ইস্যু না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলেমানুষি করেছেন। যা কোনও বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতার শোভা পায় না। সূর্যবাবুর টুইটের কমেন্ট বক্সে অনেকের সঙ্গে চিত্র পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, “মনে আছে আপনার বৈশাখ-জৈষ্ঠর গরমে চওড়া টাই পরে ঘোরা। আপনার কাছ থেকে এটাই আশা করা যায়। কমিউনিস্ট তো দুরস্থান, মানুষ হবার চেষ্টা করুন।" কেউ কেউ কটাক্ষ করে সূর্যবাবুর উদ্দেশে বলেছেন, “আপনাদের সরকারই তো ইংরাজিটা লাটে তুলে দিয়েছিল, তাই এত সমস্যা।”
প্রসঙ্গত, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর বক্তৃতা শুনলে বোঝা যায় উনি প্রতিবাদকে ‘পতিবাদ’ বলেন। প্রতিরোধকে বলেন, ‘পতিরোধ।’ সূর্যবাবু কি তাঁকেও ব্যঙ্গ করেছেন? দেবলীনা হেমব্রম বা তাঁর দলের অন্য আদিবাসী নেতারাও কি স্পষ্ট ইংরাজি উচ্চারণ করেন? সূর্যবাবু কি তাঁদেরও অপমান করে ফেললেন না? তাঁর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দেন। প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
গ্রামাঞ্চলে সংগঠনের হাল তথৈবচ। প্রতি ভোটেই দেখা যাচ্ছে হিমোগ্লোবিন কমছে আলিমুদ্দিনের। তাহলে কি এটাই কারণ? রাজনৈতিকমহলের অনেকের মতে, পার্টিটা শহরে শখের বিপ্লবীদের কুক্ষিগত হয়েছে। তাই এমন অবস্থা। মার্ক্সবাদের পলেস্তারা খসিয়ে দিয়ে এখন মেট্রপলিটন চাকচিক্য। তাই ‘শ্রীণিমিত্র’দের সমস্যাকেও এখন ব্যঙ্গ করেন রাজ্য সম্পাদক। দেবলীনা হেমব্রমরা সেখানে প্রান্তিক। জঙ্গলমহলে জনবিচ্ছিন্ন।
সূর্য মিশ্রের এই টুইট নিয়ে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “আসলে ওঁদের আর রাজনীতি করার ইচ্ছে নেই। অর্ধেক পার্টিটা বিজেপি-তে ভিড়ে গিয়েছে। বাকিটা ওঁরা নিজেরাই এ ভাবে তুলে দেবেন।” পার্টি অফিসগুলিতে সিপিএম নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই নিয়ে হইহই পড়ে গিয়েছে। দলের হুগলি জেলার এক নেতা বলেন, “বুথে এজেন্ট হওয়া পাড়ার কর্মীরও রাজ্য সম্পাদকের থেকে বেশি রাজনৈতিক পরিপক্কতা রয়েছে।” গত কয়েক বছরে সোশ্যাল মিডিয়া কী ভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে বহু শিক্ষা শিবির করেছে সিপিএম। জেলা থেকে কর্মীদের কলকাতায় এনে এই কর্মশালা চালিয়েছে আলিমুদ্দিন। কিন্তু কর্মীরা তো দূর, দলের রাজ্য সম্পাদকের এমন কাজ দেখে হাসছেন অনেকেই।
যদিও সূর্যবাবুকে আড়াল করতে সিপিএমের একটি সূত্রের দাবি, তিনি নিজে নিজের টুইটার হ্যান্ডল চালান না। অন্য কেউ দেখেন। কিন্তু তা বলে তো আর লাভ নেই, হ্যান্ডল যখন সূর্যবাবুর নামে, দায় তো তাঁকেই নিতে হবে।
আরও পড়ুন-
https://www.four.suk.1wp.in/news-bengal-partha-chatterjee-threatens-to-take-legal-action-if-controversial-post-not-withdrawn-from-facebook/