দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবাসরীয় দুপুরে ফেসবুক লাইভে বসেছিলেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। দলবদলের ভরা বাজারে তাঁকে নিয়েও বিস্তর জল্পনা রয়েছে। আবার জল্পনা তো এমনি হয় না। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তার কিছু মন্তব্যই এই জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এদিন তাই ফেসবুক লাইভে বসতেই রাজীবের উদ্দেশে ধেয়ে এল অমোঘ প্রশ্ন—‘ভোটের আগে এই নাটক কেন?’
মজবুল হক নামের জনৈক এক ব্যক্তি ডোমজুড়ের বিধায়ককে এই প্রশ্ন করেন। আসলে ভাল-মন্দ মিশিয়ে প্রশ্ন আসছিল শয়ে শয়ে। রাজীব সেখান থেকেই বেছে বেছে উত্তর দিচ্ছিলেন। এ প্রশ্নটা তিনি চাইলে এড়িয়েই যেতে পারতেন। কিন্তু বনমন্ত্রী তা করেননি। বরং প্রশ্নটা নিজেই পড়ে শোনান। তার পর বলেন, "আপনাকে আমি বলতে চাই, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের আগে কোনও নাটক করছে না। আমি অনেক দিন ধরেই যেখানে যা বলার তা বলছি। যখন মনে করেছি কোনও সিস্টেমের বিরুদ্ধে বলা দরকার তখনই বলেছি। কিন্তু যখন দেখেছি কিছু হচ্ছে না তখন হয়তো অন্য ফোরামে দু’একটা কথা বলেছি।"
তাঁর কথায়, “আমার কি বলার স্বাধীনতা নেই। কর্মীদের অসম্মান হলে কি বলতে পারব না!”। তা ছাড়া, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি যে বারবার বাধা পেয়েছেন এবং তাতে দুঃখ পেয়েছেন, সে কথাও এদিন নির্দ্বিধায় জানিয়েছেন রাজীব।
তবে এটা ঠিক, তাঁকে নিয়ে মূল কৌতূহলের ব্যাপারে রাজীব এদিনও ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন। হয়তো সেটাও কৌশল। মুখে তিনি বলেছেন, ‘স্পষ্ট কথা বলতে আমার কষ্ট নেই।’ কিন্তু তিনি তৃণমূলে থাকবেন, নাকি দল ছাড়বেন তা ৩৪ মিনিটের লাইভে কিছুই পরিষ্কার করে জানাননি। বরং তাঁর কথার মধ্যে উঠে এসেছে যেন মাও সে তুংয়ের মন্ত্র। মাও বলেছিলেন, জলের সঙ্গে যেমন মাছের সম্পর্ক তেমন জনগণের সঙ্গে কমিউনিস্টদের সম্পর্ক হওয়া উচিত। এদিন রাজীবও বার বার বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্যও তাই। তাতেই মোক্ষলাভের স্বপ্ন দেখেন তিনি।
কখনও তিনি বলেন, দলনেত্রীর দিশাতেই কাজ করেছি, আবার কখনও বেকার যুবকদের হতাশা ও দিশাহীনতা, বাংলায় কাজের সুযোগের অভাব নিয়ে বেদনার কথা জানান। আর সব শেষে বলেন, মানুষ যেমন চাইবেন তিনি তেমনই করবেন।
রাজীবের ফেসবুক লাইভ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, "বিজেপির গ্যাস খেয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। রাজীব মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। তাঁর যা বক্তব্য তা ক্যাবিনেটে বলা উচিত। ফেসবুক-টুইটারে অথবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নয়।" তিনি আরও বলেন, "রাজীব আমার ছোট ভাইয়ের মতো। ওকে আমি নিজে ফোন করে বলেছি, চলে আয়। অন্য কারও কথায় প্রভাবিত না হতে বলেছি। জানি না কী করবে।"
তবে বনমন্ত্রীর কথায়, "গুটিকয়েক নেতাকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হচ্ছে না। এ সব না মিটলে দূরত্ব বাড়বেই, ভুল বুঝবেন না।"