দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্দি-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দমদম সেন্ট্রাল জেল। করোনা সতর্কতায় বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কয়েদিদের দেখাসাক্ষাৎ বন্ধ করা নিয়ে বচসার সূত্রপাত। তা থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হল জেলের ভিতর। অভিযোগ, কয়েকশো বন্দি আগুন লাগিয়ে দেয় জেলের ভিতর। পরিস্থিতি বাগে আনতে গুলি চালান কারারক্ষীরা। তাতে এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পাঠানো হচ্ছে কলকাতায়। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের সাতটি ইঞ্জিন।
এদিন বিক্ষোভে ফেটে পড়েন জেলের কয়েদিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে জেলকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় কারারক্ষীদের। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে জেলের ভিতরে মারমুখী বিচারাধীন এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা দরজা জানালা ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয় । যথেচ্ছভাবে চলতে থাকে ভাঙচুর।
https://www.youtube.com/watch?v=jw2UdPDWn8Q
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান দমকল প্রতিমন্ত্রী সুজিত বসু ও ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। দুই গুলিবিদ্ধ কয়েদি ছাড়াও বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। দমদম জেলের দক্ষিণ অ পশ্চিম দিকে রয়েছে জনবসতি। উত্তর ও পূর্ব দিকে রয়েছে জেসপ কারখানা। ফলে আগুন যাতে বাইরে না ছড়ায় তারই চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
গত পরশু রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেলের কয়েদিদের সঙ্গে বাড়ির লোক বা বাইরের কাউকে দেখা করতে দেওয়া হবে না। আজ থেকেই তা কার্যকর হওয়া শুরু হয়। কিন্তু বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা জেল কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ মানেনি।
বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তা কাজে দেয়নি। কয়েকশো বন্দি মিলে কার্যত তাণ্ডব চালায় জেলের ভিতর। জেলের অফিস লণ্ডভণ্ড করে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।