
শেষ আপডেট: 9 June 2019 11:40
ঝকঝকে পরিষ্কার স্টিলের থালায় সাজানো রয়েছে জলঢালা ভাত। গোদা বাংলায় যাকে বলে পান্তা। পাশে ছোট একটা প্লেটে শোভা পাচ্ছে একফালি গন্ধরাজ লেবু, কাঁচা লঙ্কা, পেঁয়াজ এবং শুকনো লঙ্কা ভাজা। বাকি মেনু দেখে জিভে জল আসতে বাধ্য। প্লেটে-বাটিতে সাজানো রয়েছে রকমারি পদ। মাছের ডিমের বড়া, ডালের বড়া, পোস্তর বড়া, আলু চোখা কী নেই সেখানে। রয়েছে চুনো মাছের চচ্চড়ি, মাছের মাথা দিয়ে ছ্যাঁচড়া, কাতলা মাছের কালিয়া, ইলিশ মাছের ঝাল। শেষ পাতে মিষ্টিমুখ করতে হাজির আনারসের চাটনি। ব্যবস্থা রয়েছে ফলাহারেরও। হিমসাগর আমের সঙ্গে জুটি বেঁধেছে কাঁঠালও। আবার আইসক্রিমও রয়েছে।
কিন্তু কোথায় হয়েছে এমন এলাহি আয়োজন?
হুগলির চুঁচুড়ায়। সৌজন্যে 'চুঁচুড়া আরোগ্য' নামের এক সংস্থা। গোটা ভুরিভোজের আসল আকর্ষণ কিন্তু ওই পান্তা ভাত।
ক্যালেন্ডার বলছে জুন মাস পড়ে গিয়েছে। হিসেব অনুযায়ী বঙ্গে বর্ষাও এসে যাওয়ার কথা। কিন্তু চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের তুলনায় খানিক দেরিতেই বর্ষা এসেছে কেরলে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরও জানিয়েছে, বঙ্গে বর্ষা আসতে এ বার দেরি হবে। তাই আপাতত ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছেন বঙ্গবাসী। কিন্তু এই তীব্র গরমেও বাঙালির রসন তৃপ্তির খেয়াল রাখতে হাজির হয়েছেন হুগলি জেলার এই সংস্থা। তারা আয়োজন করেছে 'পান্তা উৎসব'। গত ১০ বছর ধরেই এই উৎসবের আয়োজন করছে এই সংস্থা।
অনুষ্ঠানের অন্যতন উদ্যোক্তা ইন্দ্রজিৎ দত্তর কথায়, "এ বছর বর্ষা একটু দেরিতেই আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আমাদের পান্তা উৎসবের পরেই বর্ষা আসবে বলে আশা করছি। সাধারণ মানুষদের ভোজ খাইয়ে একটু তৃপ্তি দেওয়ার জন্যই এই অনুষ্ঠান করা। মেনু খুবই সাধারণ। একেবারে বাংলার চিরকালীন সাবেকি খাবার পান্তা ভাত। তবে এতেই গত ১০ বছর ধরে দারুণ ভাবে সাড়া দিয়েছেন এলাকাবাসী।" ইন্দজিৎবাবু আরও বলেছেন, যে গরমকালে চিকিৎসকরাও পান্তা খাওয়ারই পরামর্শ দেন। এতে শরীরও ঠাণ্ডা থাকে। এমনকী স্বয়ং বিশ্ব শ্রী মনোহর আইচও পান্তা খেতেন নিয়ম করে।"
আপাতত 'পান্তা উৎসব'-এই মেতেছেন চুঁচুড়াবাসী। তবে কেবল চুঁচুড়ার বাসিন্দারা নন, আশেপাশের অনেক জায়গা থেকেই লোকজন আসছেন কবজি ডুবিয়ে পান্তা খাওয়ার বাসনায়। স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, এই উৎসবের জন্য সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন তাঁরা। গত ১০ বছর ধরে প্রতি গরমে অন্তত একদিন সবাই মিলিয়ে জমিয়ে পান্তা খাওয়াটাই এখানকার বাসিন্দাদের অভ্যাস। এ বছরেও ঠিক তেমনটাই হয়েছে। এলাহি আয়োজনে রবিবার দুপুরের ভুরিভোজ কিন্তু একদম জমে গিয়েছে। প্রায় সাতশো লোক এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।