দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে আদিবাসী দুই নাবালিকা বোনের গণধর্ষণের ঘটনার তদন্তে জলপাইগুড়ি গেল চাইল্ড রাইট কমিশন বা শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। গণধর্ষণের পরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে বড় বোন। ছোট বোন এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি। সেখানেই তার সঙ্গে দেখা করেন প্রতিনিধিরা।
রবিবার সকালে জলপাইগুড়ি যান পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমিশনের আরও দুই আধিকারিক সুস্মিতা চক্রবর্তী ও সিদ্দিকা পারভিন। জলপাইগুড়ি পৌঁছেই তাঁরা প্রথমে যান সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। সেখানেই ভর্তি আছে ছোট বোন। সেখানে গিয়ে তারা নাবালিকার সঙ্গে কথা বলেন। তার শারীরিক অবস্থার খবর নেন। তারপরে তারা সেখান থেকে যান জলপাইগুড়ি সার্কিট হাউসে।
অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, “আমরা মেয়েটির সাথে দেখা করে এলাম। সে এখন অনেকটাই সুস্থ আছে। এরপরে আমরা জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকের পরে আমরা রাজগঙ্গে গিয়ে আদিবাসী পরিবারের সঙ্গে দেখা করব। নির্যাতিতারা যাতে বিচার পায় সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে।”
গত শুক্রবার রাজগঞ্জের সন্নাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের নবগ্রাম এলাকার একটি চা বাগানের কর্মীর দুই মেয়ে তাদের কাকার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। বিকেলের পর বাড়ি ফেরার পথে তাদের রাস্তা আটকায় পাশের গ্রামের কিছু যুবক। এরপর তাদের গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। কোনওমতে সেখান থেকে পালিয়ে তারা বাড়ি ফেরে। এরপর লোকলজ্জার ভয়ে রবিবার রাতে দুই বোন একসঙ্গে কীটনাশক খায় বলে জানা গিয়েছে।
পরিবারের লোকজন সঙ্গে সঙ্গে দুই বোনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে তাদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে সোমবার রাতে মারা যায় ১৬ বছর বয়সী বড় বোন। ছোট বোন হাসপাতালে ভর্তি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে সে।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ডিএসপি (ক্রাইম) প্রদীপ সরকারের নেতৃত্বে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ঘটনার দিন ঠিক কী কী হয়েছিল বিস্তারিত খোঁজ নেন। এই ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুজনের খোঁজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।