দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যে ভোটে ইস্যু হয়ে উঠতে পারেন তা বাংলার মানুষের দেখা হয়ে গিয়েছে। গত লোকসভার আগে বিদ্যাসাগর কলেজে ঈশ্বরচন্দ্রের মুর্তি ভাঙা নিয়ে কী কাণ্ডটাই না হয়েছিল। আজ ২৯ জুলাই, বিদ্যাসাগরের মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর হিড়িক দেখা গেল তৃণমূল, বিজেপি দুই শিবিরেই। তা থেকে বাদ গেলেন না খোদ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। বিদ্যাসাগরকে উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন রাজ্যপাল। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টুইটকে রিটুইট করে তির্যক আক্রমণ শানালেন যুব তৃণমূল সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1288340374671384576
এমনিতে মনীষী বা বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্ম ও মৃত্যু দিনে টুইট করে শ্রদ্ধা জানানোটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রুটিন অভ্যেস। এদিন সকালেও নারী শিক্ষার প্রসারে এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিদ্যাসাগরের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইট করেন মমতা। তার কিছুক্ষণ পরেই বিদ্যাসাগরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল ঈশ্বরচন্দ্রকে উদ্ধৃত করে লেখেন, “যদি তুমি সফল হতে চাও বা সম্মানজনক জায়গায় নিজেকে তুলে ধরতে চাও তাহলে তোমাকে নমনীয় হওয়া শিখতে হবে। কারণ যে নমনীয় হতে জানে না তাকে বড় ঝড় এসে ধাক্কা দিতে পারে।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে মেনশন করে ধনকড় লেখেন, “সংবিধান ও গণতন্ত্রের জন্য নমনীয় হোন!”
https://twitter.com/MamataOfficial/status/1288333338139176960
এ তো গেল মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রাজভবনের কটাক্ষ। এর পর সরাসরি রাজনৈতিক আঙিনাতেও এসে পরে উত্তাপ। অমিত শাহের টুইট নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও বাংলার নবজাগরণে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা, নারীর ক্ষমতায়ন, বিধবা বিবাহ আইন চালু করার মতো একের পর এক মাইলস্টোন উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান তাঁকে। পাল্টা অভিষেক ঈশ্বরচন্দ্রের ধর্মনিরপেক্ষতা ও মুক্তচিন্তার কথা উল্লেখ করে অমিত শাহের উদ্দেশে লেখেন, “আপনারা লোকজনই আপনার চোখের সামনে ঈশ্বরচন্দ্রের মূর্তি ভেঙেছিল। দয়া করে এসব লোক দেখানো জিনিস বন্ধ করুন।” রাজ্য বিজেপির টুইট নিয়ে সমালোচনা করে তৃণমূলের টুটার হ্যান্ডেলও।
https://twitter.com/abhishekaitc/status/1288377953668100096
গত বছর কলকাতায় বিজেপির মিছিলের সময়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনার প্রভাব শেষ দফার ভোটে পড়েছিল। দেখা গিয়েছিল ওই দফার ভোটে একটি আসনও পায়নি বিজেপি। অনেকে মমে করছেন, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই হয়ত অমিত শাহ-সহ রাজ্য বিজেপির অনেক নেতাই এদিন বাঙালির সেন্টিমেন্ট পেতে বিদ্যাসাগরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে কোনও ত্রুটি রাখেনি। পাল্টা তৃণমূলও মানুষের স্মৃতি উস্কে বলতে চেয়েছে, এসব ছদ্ম শ্রদ্ধা। এরা আসলে বাংলার মনিষীদের প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করতে পারে না।
https://twitter.com/AITCofficial/status/1288390921722068992
যদিও বাম-কংগ্রেস শিবিরের অনেকে বলছেন, দু’দলই সমান। প্রবীণ এক কংগ্রেস নেতা বলেন, “বেচারা বিদ্যাসাগর! বাংলার রাজনীতির কী দুর্দশাইটা না হল। ক্ষমতার জন্য এখন বিদ্যাসাগরমশাইকে নিয়েও টানাটানি করতে হচ্ছে!” সিপিএমের এক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের কথায়, “বিদ্যাসাগর যে সামাজিক চেতনায় বিশ্বাস করতেন তা নবগাগরণের রাস্তা করে দিয়েছিল। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আজীবন লড়েছিলেন তিনি। আরএসএস চায় সেই সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে। অন্যদিকে এ রাজ্যের শাসকদলও তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই পুলিশ দিয়ে, মিথ্যে মামলা দিয়ে দমিয়ে দিতে চাইছে বিরোধীদের। দু’দলের কারওরই নৈতিক অধিকার নেই বিদ্যাসাগর নিয়ে কথা বলার। অমিত শাহ বা অভিষেকদের মুখে বিদ্যাসাগর নামটা উচ্চারিত হওয়াটাই দুর্ভাগ্যের।”