দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার কাণ্ডে গত সাত-দশ দিনে রাজ্যে জায়গায় জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই। ভিন রাজ্যেও অভিযানে নেমেছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এবার সেই তদন্তেই পুরুলিয়ার ব্যবসায়ী অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠালো সিবিআই।
কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সূত্রে খবর, আগামী সোমবার লালাকে ডেকে পঠানো হয়েছে। এর আগে সিবিআই কয়লা কাণ্ডে এফআইআর দায়ের করেছে তাতে নাম রয়েছে লালার। তাছাড়াও সিবিআইয়ের এফআইআরে একাধিক কোল কর্তারও নাম রয়েছে। গত সপ্তাহে দুর্গাপুর, আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া-সহ পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক কোল কর্তার বাড়িতে তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা।
পুরুলিয়ায় লালার বাড়িতেও হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যদিও সে সময় তাঁর হদিশ পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দারা মনে করছেন অত্যন্ত সংগঠিত কায়দাতেই কয়লা পাচার চলতো। সরকারি আমলারাও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। সূত্রের খবর, লালাকে জেরা করে সেই চক্রেরই হদিশ পেতে চাইছে সিবিআই। অনেকের সন্দেহ, এর মধ্যে পুরদস্তুর রাজনৈতিক মদত রয়েছে। তা নাহলে এত সংগঠিত কায়দায় কয়লা পাচার সম্ভব নয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেদিন কলকাতায় এসেছিলেন কাকতালীয় ভাবে সেদিনই তল্লাশি চালাচ্ছিল সিবিআই। প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, "হোম মিনিস্টার এখানে এসেছেন আর এজেন্সি নেমে পড়েছ।কী প্ল্যানিং বাপ রে বাপ!",
পাল্টা নিউটাউনের হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শাহ বলেন, " শুনছি কোন এক লালাজি নাকি জড়িত! কয়লা তো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। তা থেকে রাজ্যও রাজস্ব পায়। সেই কয়লা চোরদের যদি ধরা হয় তাহলে মমতা দিদি এত রেগে যাচ্ছেন কেন।"
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই কয়লা ও গরু পাচার নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে গতি এসেছে। ইতিমধ্যেই গরু পাচার কাণ্ডে বিএসএফ কর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যতম অভিযুক্ত এনামুলকেও এবার সিবিআই ডাকতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।