দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়া হওয়া এবং তাঁদের ঘরে ফেরানোর মামলায় রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বলেছে, ‘প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে নিজের বাড়িতে শান্তিতে বসবাস করার। এটা দেখা রাজ্যের কাজ। রাজ্য প্রথম থেকেই সবকিছু অস্বীকার করছে। কিন্তু রাজ্য লিগ্যাল এইড সার্ভিসের রিপোর্ট অন্য কথা বলছে।’
কী বলছে রাজ্য লিগাল এইড সার্ভিসের রিপোর্ট?
৩২৪৩ জন ঘরছাড়া ব্যক্তি স্টেট লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির কাছে বাড়ি ফেরার আবেদন করেছেন। এই মামলার গত শুনানিতে হাইকোর্ট তিন সদদস্যের একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিল। লিগাল এইড সার্ভিসের একজন, জাতীয় ও রাজ্য মানবাধিকার কমিশন থেকে এক জন করে প্রতিনিধি নিয়ে এই কমিটি গড়েছিল আদালত। এদিনের শুনানিতে রাজ্য ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাজ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।
শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আমরা খুশি নই, যে ভাবে জাতীয় এবং রাজ্য মানাধিকার কমিশন কাজ করছে।’ লিগাল এইড সার্ভিসে যাঁরা ঘরে ফেরার আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের আবেদন খতিয়ে দেখে নিজেদের ভিটেয় ফেরার বন্দোবস্ত করতে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ৩০ জুন ফের এই মামলার শুনানি হবে।
ঘরছাড়াদের বাড়ি ফেরানোর সময়ে কমিশনের দুই সদস্যের সেখানে থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে বৃহত্তর বেঞ্চ। সেইসঙ্গে রাজ্যের উদ্দেশে আদালত বলেছে, নির্বিঘ্নে যাতে ঘরছাড়ারা তাঁদের বাড়িতে ফিরতে পারেন এবং নিজের ভিটেয় শান্তিতে থাকতে পারেন তা রাজ্য সরকারকেই সুনিশ্চিত করতে হবে। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা রাজ্য সরকারের কাজ, অন্য কারও নয়।
এখানে বলে রাখা ভাল, বিজেপি দাবি করেছে তাঁদের অন্তত সাড়ে সাত হাজার সমর্থক ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন। উত্তরবঙ্গের কয়েক হাজার মানুষকে পড়শি রাজ্য অসমে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে। বিজেপির এও বক্তব্য, লিগাল এইডে আবেদন যাঁরা জানিয়েছেন সেই সংখ্যাটা সব নয়। এর বাইরেও বহু লোক রয়েছেন। যাঁরা ভয়ে জানাতে পাড়ছেন না।
গতকালই নবান্নে রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেছিলেন, আপনাদের কারও চোখে কোনও হিংসার ঘটনা পড়ছে কি? কারও চোখে যদি ন্যাবা হয় আমি কী করতে পারি। তিনি এও বলেছিলেন, অল্পবিস্তর যা ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশই পারিবারিক বিবাদ অথবা বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। কিন্তু এদিন আদালত কার্যত ভর্ৎসনার সুরেই বলল, রাজ্য কিছু স্বীকারই করছে না।