দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ির পথে রওনা হলেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বন্দনা তরফদার রজক। রায়গঞ্জের বারোদুয়ারি এলাকার বাসিন্দা বছর উনত্রিশের বন্দনা রেক্টাম ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর পরিবারের বিপদের কথা সংবাদ মাধ্যমে জেনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দনার বাড়ি যান রায়গঞ্জের শিল্পপতি রিঙ্কু কল্যাণী। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের মল ও বাজারে বিক্রির তিন শতাংশ কোভিড-১৯-এর সমস্যায় পড়া মানুষের সাহায্যে ব্যবহার করব বলে ক্রেতাদের কাছে ঘোষণা করেছিলাম৷ এই অসহায় পরিবারের সংবাদের ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার কর্তারা অনুরোধ করেছিলেন সাহায্য করার জন্য। মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে এই পরিবারের চেয়ে বেশি বিপদে কেউ নেই। তাই আমরা ওঁর চিকিৎসার জন্য দেড় লক্ষ টাকার চেক পরিবারের হাতে তুলে দিলাম।”
রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা বন্দনার বাড়িতে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার কাগজপত্র মিলিয়ে দেখে তখনই শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ির অনুমতি করে দেন। রাতেই বন্দনাকে নিয়ে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে যান তাঁর স্বামী পাপ্পু রজক।
দু’বছর আগে মুম্বইয়ে টাটা ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা করাতে শুরু করেছিলেন তবে টাকার অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টাকার জোগাড় করে টাটা ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরামর্শ অনুযায়ী কলকাতার একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে তাঁর চিকিৎসা শুরু করা হয় কিন্তু লকডাউনের মধ্যে ক্যানসারের যন্ত্রণা আবার শুরু হয়েছে৷ রায়গঞ্জে রেক্টাম ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। অনেক চেষ্টায় শিলিগুড়িতে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরে জানা যায় দ্রুত অপারেশন করাতে হবে বন্দনার। সব মিলিয়ে খরচ প্রায় তিন লক্ষ টাকা। অত টাকা না থাকায় তাঁর স্বামী ও বাবা বাড়িতে ফিরে আসেন।
বন্দনার বাপের বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ি কাছাকাছি। তাঁর স্বামী পাপ্পু রজক বাড়ি লাগোয়া একটা চায়ের দোকান চালান। সেটি এখন লকডাউনের ফলে বন্ধ। তাঁর বাবা সুনীল তরফদারের নার্সারি আছে। তিনি বাড়িতে গাছের চারা তৈরি করে বিক্রি করেন। তাও এখন বন্ধ লকডাউনের ফলে৷ কিছু দিন ধরেই পাপ্পু তাঁর বন্ধ চায়ের দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে চেনা-জানা লোকের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতছিলেন। তবে সকলেই বলছিলেন এখন লকডাউনের ফলে তাঁরা নিজেরাই সমস্যায় আছেন।
এই অবস্থায় পরিবারের লোক তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও প্রচার করেন যাতে সহৃদয় মানুষজন তাঁদের সাহায্য করতে পারেন। অর্ধেক টাকা দিয়েছেন এক শিল্পপতি। এখনও বাকিটা তাঁদের জোগাড় করতে হবে।
নাম: Bandana Tarafdar Rajak, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 3717108004352, আইএফএসসি কোড: CNRB0003717
চাইলে তাঁর স্বামী পাপ্পু রজককে ফোন করা যেতে পারে ৯৫৪৭০১৫৪১৮ নম্বরে। পাপ্পু চাইছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু হয়ে যাক বন্দনার। পাপ্পু ও বন্দনার একটি বাচ্চা মেয়ে রয়েছে।