দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিদিন সকালে যাঁরা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহনবাগান মাঠে যান, তাঁরা সকলেই ‘ম্যাঙ্গো’ নামটার সঙ্গে পরিচিত। নামের সঙ্গে পরিচিত না হলে দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে প্রতিদিন রোগা শ্যামলা ছেলেটাকে মাঠে আপনি দেখবেন নিজের মনে প্র্যাকটিস করতে।
সেই ছেলে আপনগতিতে ছুটে চলে। সে এখন রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ম্যারাথন জয় করেছে। এখন তার সামনে হাতছানি বিদেশ যাওয়ার কিন্তু বাপ-মা হারাছেলের কাছে বড় বাধা টাকা। অর্থের অভাবে খেলা চালিয়ে যাওয়াই অসম্ভব হয়ে পড়ছে ম্যাঙ্গো অর্থাৎ রঞ্জনের কাছে।
বর্ধমানের ফাগুপুরের বাসিন্দা রঞ্জন বাগ। খেলার মাঠে তাঁকে সবাই চেনেন ম্যাঙ্গো নামে। বছর চল্লিশ বয়স। জগদাবাদ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছেন। তারপর বাবা মারা যাওয়ার জন্য পড়াশোনা চালানো সম্ভব হয়নি। তারপরে তাঁর মাও মারা যান।
ছোট থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ। ছিপছিপে চেহারা নিয়ে বিদ্যুৎগতির দৌড়ে পিছনে ফেলে দিতেন সকলকে। নানা বাধা বিপত্তি কোনও দিনই মাঠ থেকে সরাতে পারেনি ম্যাঙ্গোকে। শত সমস্যার মধ্যেও তিনি মাঠে পড়ে থেকেছেন। মাঠও তাঁকে ফেরায়নি। ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত একটানা মুম্বই ম্যারাথনে যোগ দিয়েছেন। পরে ২০১৭ সালে ভালো ফল করেন তিনি।
২০১৩ সালে অবশ্য আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে তিনি ত্রয়োদশ স্থান পান। আন্দামান সহ দেশের নানা জায়গায় ম্যারাথন ও ট্র্যাক ইভেন্টে যোগ দিয়ে তিনি ছিনিয়ে নিয়েছেন একাধিক পদক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইম্ফলে অনুষ্ঠিত ৪১ ন্যাশনাল মাস্টার অ্যাথলেটিক মিটে দশ হাজার মিটার দৌড়ে তিনি তৃতীয় স্থান পান। সেই টুর্নামেন্টে তিনি বাংলা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
ইতিমধ্যে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর কাছে বিদেশে ম্যারাথনে নামার সুযোগ এসেছে। কোথায় যাবেন তা এখনও ঠিক না হলেও এখন থেকেই মনমরা ম্যাঙ্গো। খেলা যেখানেই হোক না কেন, তাঁর কাছে বিদেশ যাওয়ার সামর্থ্য নেই। মোহনবাগান মাঠে প্র্যাকটিসের মাঝে তিনি জানান, “সেখানেই অংশ নিতে যাই বিশেষ কয়েকজন তাঁকে আর্থিক সাহায্য করেন।”
ইম্ফলে অনুষ্ঠিত ৪১তম ন্যাশনাল মাস্টার অ্যাথলেটিক মিটে যাওয়ার জন্য সাঁকো হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বাসুদেব চক্রবর্তী তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়ে সাহায্য করেন শামসুদ্দিন, অন্য বেশ কয়েক জন বন্ধুও তাঁকে সাহায্য করেন। কিন্তু এভাবে ক’দিন? একটা চাকরি না পেলেই নয়।
বিদেশে যাওয়ার বিপুল খরচ জোগানোর জন্য ফের কার কাছে হাত পাতবেন তিনি ভেবে পাচ্ছেন না ম্যাঙ্গো। তিনি বলেন, “খেলা ভালবেসে কোনও কাজ করা হয়নি। ভাই স্বপন বাগের কাছেই থাকি। আশা ছেড়ে দিয়েছি বিদেশে যাওয়ার। এখন খেলা চালিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য।”